যখন কেউ মিথ্যে এফ আই আর (FIR) দায়ের করে তখন কি করবেন?

যদি কেউ কোন কারণে আপনার উপর মিথ্যে এফ আই আর (FIR) করে তাহলে কি করবেন? মিথ্যে এফ আই আর নিয়ে কি বলে আইন? জানুন মিথ্যে এফ আই আর দায়ের করার বিরুদ্ধে কিভাবে আইনি ভাবে লড়াই করবেন।

আইন সমাজকে সুরক্ষিত রাখার জন্য বানানো হয়েছে। কিন্তু সমাজে সমস্ত লোক একই রকম নয়। কোন কোন মানুষ আলাদা রকমের হয়ে থাকে। সমস্ত মানুষ ভিন্ন ভিন্ন পথে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছেন। আর ভারতের আইন কানুন অত্যন্ত বিশদ, আর তার সাথে ভ্রষ্টাচারও তো লেগেই রয়েছে।

কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে কোনো ব্যক্তি দ্বারা কোন নির্দোষ ব্যক্তির উপরে অপরাধের মিথ্যে দোষ দেওয়া হয়, সেই ব্যক্তি এমন অপরাধ কখনোই করেনই নি, তার বিরুদ্ধে এমন অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়। ভারতের আইনে এমন মিথ্যে অভিযোগ এর উপরে FIR দায়ের করা যাবে না। এমন নির্দেশ পুলিশ আধিকারিকদের দিয়ে রাখা হয়েছে।

যখন কেউ মিথ্যে এফ আই আর (FIR) দায়ের করে তখন কি করবেন?
যখন কেউ মিথ্যে এফ আই আর (FIR) দায়ের করে তখন কি করবেন?

পুলিশ আধিকারিক যিনি কিনা একজন নিষ্পক্ষ  ব্যক্তি, কোন একজন পক্ষের কখনোই এফ আই আর দায়ের করবেন না। তিনি না তো অভিযোগ কারীর দিকে ঝুঁকবেন, না তো কোন দোষী ব্যক্তির দিকে ঝুঁকবেন।

প্রমাণ এর ওপরে নির্ভর করে সত্যি বিষয়ের উপরে এফ আই আর দায়ের করা হবে। আর পুলিশ আধিকারিক এর কর্তব্য হলো সবকিছু জানার পর, তবেই অনুসন্ধান করে ভালোভাবে বিষয়টি যাচাই করার পর, সেই মামলার এফ আই আর দায়ের করবেন।

যদি কোথাও কোনো অপরাধ হতে দেখা যায়, সেই অপরাধ সম্পর্কিত সমস্ত রকম প্রমাণপত্র যখন সামনে দেখা যাবে, তখনই পুলিশ আধিকারিক এর কর্তব্য হবে যে, সেই অপরাধ সম্বন্ধিত এফ আই আর দায়ের করা।

এফ আই আর (FIR) আসলে কি?

ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুসারে ধারা 154 অন্তর্গত এফ আই আর দায়ের করা হয়, এফ আই আর এমন নথিপত্র যা কিনা কোন অপরাধের বিরুদ্ধে প্রথম সূচনা হয়ে থাকে, যখনই কোনো অপরাধ ঘটে তখন পুলিশ আধিকারিক কে অপরাধীর সমস্ত কিছু বর্ণনা দেওয়ার পর সবকিছু জেনে বুঝে তবে সেই পুলিস আধিকারিকের অধিকার থাকবে এফ আই আর দায়ের করা। এফ আই আর এর ফুল ফর্ম হল, ফাস্ট ইনফর্মেশন রিপোট (First Information Report)

আবার দেখা যায়, অনেক মানুষ আছেন কোনো ভালো মানুষকে, নির্দোষ ব্যক্তিকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যে করে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ এনে এফ আই আর দায়ের করা হয়, পুলিশ স্টেশনে। এফ আই আর দায়ের হওয়া কোনো অপরাধের জন্য ভালো দিক তো বটেই, তবে কোন নির্দোষ ব্যক্তির জন্য খুবই বিপদজনক।

কেন না কোন কারণে যদি এফ আই আর দায়ের হয়ে যায়, তখন সেই দোষী ব্যক্তির অনুসন্ধান করা হয় এবং তার উপরে মামলা-মোকদ্দমা চালানো হয়। যদি কোনো নির্দোষ ব্যক্তির উপরে এমন অকারনে অনাবশ্যক ভাবে মামলা চালানো হয়, তাহলে কিন্তু সেটা যেকোন সমাজের জন্য খুবই গুরুতর জঘন্য এবং খুবই খারাপ বিষয়।

ভারতের আইন এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সম্পূর্ণ ব্যবস্থা রেখেছে। যদি কোনো পুলিশ আধিকারিক কোন অভিযোগকারীর সাথে হাত মিলিয়ে কোন নির্দোষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফ আই আর দায়ের করে থাকেন, তাহলে সেই ব্যক্তির কাছে এই অধিকার আছে যে, বিচারালয় এ গিয়ে সেই এফ আই আর বন্ধ করে দেওয়া।

এফ আই আর বন্ধ করা যায় কিভাবে?

ভারতীয় দন্ডবিধি আইন 1973, ধারা 482:

ভারতীয় দন্ডবিধি আইন 1973 এর ধারা 482 উচ্চ আদালত অন্তরিত একটি ক্ষমতা দিয়েছে। এই ধারার অন্তর্গত উচ্চ আদালত কে সরাসরি বড় ক্ষমতা দিয়ে থাকে, সেই ক্ষমতার মধ্যে যে কোনো এফ আই আর কে বন্ধ করার ক্ষমতা ও আছে।

যেমন ধরুন কোন ব্যক্তির উপরে কোন মামলা চালানো হচ্ছে, সেই মামলাটি বন্ধ করার  ক্ষমতাও কিন্তু আছে, এই ক্ষমতা সর্বোচ্চ বিচারালয়ের কাছে কিন্তু নেই। এই মামলার ক্ষেত্রে ক্ষমতা শুধুমাত্র উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে দেওয়া হয়েছে।

কোন আধারের / বিষয়ের উপরে এফ আই আর বন্ধ করা যেতে পারে?

এফ আই আর বন্ধ করার জন্য কিছু বিষয় দেওয়া হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তির মামলাতে এই সমস্ত বিষয়গুলি পাওয়া যায় এবং ধারা 482 অন্তর্গত একটি আবেদন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রস্তুত করা যেতে পারে, তার সাথে উচ্চবিচারালয় কে এর বিচারকের কাছে এই মামলা সম্পর্কে সমস্ত কিছু তথ্য প্রদান করতে হবে।

সেখানে বলা যেতে পারে যে, একজন নির্দোষ ব্যক্তির উপরে কিভাবে মিথ্যে এফ আই আর দায়ের করা হয়েছে। তার জন্য আবেদন করা যেতে পারে যে, সেই এফ আই আর যেন বন্ধ করা হয়।

মিথ্যা তথ্য:

পুরো মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যদি কোনো এফ আই আর দায়ের করা হয়, সেটাও কিন্তু মিথ্যে হিসেবে প্রমাণিত হয়, আর সেটা প্রমাণিত হয় যে, কোনো নির্দোষ ব্যক্তির উপরে মিথ্যে এফ আই আর দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ আর অভিযোগকারীর যদি এই বিষয়ে কোন রকম ভূমিকা থাকে অথবা যদি দুই পক্ষ মিলে এফ আই আর দায়ের করেছে মিথ্যা ভাবে, তাহলে উচ্চ বিচারালয় / আদালতের কাছে এই ক্ষমতা আছে যে, সেই FIR বন্ধ করে দেওয়ার।

মিথ্যে আধার / বিষয়:

যদি কোন এফ আই আর দায়ের করার জন্য বেশ কিছু বিষয় বা আধারের উপর নির্ভর করে করা হয়, তাহলে সেই সম্বন্ধিত সমস্ত রকম প্রমাণপত্র ব্যক্তি দ্বারা বিচারালয় এ জমা করা হয়েছে, যার উপরে ভিত্তি করে এফ আই আর দায়ের করা হয়েছে, তখন উচ্চ বিচারালয় এমন এফ আই আর কেউ বন্ধ করে দিতে পারবে।

যেমন ধরুন কোন ব্যক্তি কর্মস্থলে কার্যরত রয়েছেন, সেই ব্যক্তি দ্বারা নিজের অধীনস্থ কর্মচারী দের নিয়ম লঙ্ঘন করার থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টা করে থাকেন, তখন কর্মচারী সেই ভালো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই রকম মিথ্যে অভিযোগ নিয়ে মিথ্যে এফ আই আর দায়ের করার চেষ্টা করে থাকতে পারেন।

এতে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এফ আই আর কেবল মাত্র কোন ব্যক্তির উপরে অপবাদ, লাঞ্ছনা, লাগানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তখন বিচারালয় সেই এফ আই আর কে একেবারে বন্ধ করে দিতে পারবে। কোনরকম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না।

দণ্ডবিধি অনুসারে যে ধারা দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী পুলিশের উদ্দেশ্য কোনরকম আইন লংঘন করা নয়, আজও মানুষ পুলিশের উপরে ভরসা করেন, সঠিক বিচার পাওয়ার জন্য। তাই এমন পরিস্থিতিতে কোন ভাল মানুষের চরিত্র, জীবন নিয়ে খেলা করা একেবারেই উচিত নয়। আইন অনুসারে সেটা দণ্ডনীয় অপরাধ।

আর এক্ষেত্রে সমস্ত বিষয়ের উপরে খেয়াল রাখার পর অনুসন্ধান করার মধ্যে দিয়ে, এফ আই আর দায়ের করা উচিত এবং যদি পরবর্তীতে সেটা মিথ্যে FIR হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে সেই এফ আই আর বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা উচ্চ বিচারালয়ের কাছে তো রয়েছেই, তাই না ! তবে তার জন্য আপনাকে আবেদন করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *