পুলিশ FIR না লিখলে কি করবেন? এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত?

আপনার অভিযোগের বিরুদ্ধে পুলিশ FIR না লিখলে কি করবেন? অভিযোগ দায়ের করা আপনার অধিকার এক্ষেত্রে পুলিশ যদি এফআইআর না নেয় তাহলে এই পরিস্থিতিতে কি করবেন জানুন আইনি নিয়ম।

পুলিশ যা কিনা রাজ্যে নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। আর পুলিশের এটা কর্তব্য যে, নিজের রাজ্যে নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান করা ভারতীয় দণ্ডবিধি আর এই বিধানের মত অন্যান্য শাস্তি প্রদান করার মত আলাদা আলাদা অপরাধের উল্লেখ করে থাকে।

এমন অনেক কাজ রয়েছে, যেগুলি পার্লামেন্ট অথবা রাজ্য বিধান মন্ডল অপরাধ হিসাবে মান্যতা দিয়েছে। যে কোন ব্যক্তির সাথে যখন এমন কোন অপরাধ জনিত ঘটনা ঘটে থাকে তখন সেই ব্যক্তিকে পীড়িত ব্যক্তি বলা হয়। যে পীড়িত এর পরিভাষা বিধানের ধারা (WA) এতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

পুলিশ FIR না লিখলে কি করবেন? এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত?
পুলিশ FIR না লিখলে কি করবেন? এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত?

এমন পীড়িত ব্যক্তি সবার প্রথমে নিজের সাথে হওয়া ঘটনা সম্বন্ধে অভিযোগ করার জন্য পুলিশ স্টেশনে যাবেন, যেখানে বা যে এলাকাতে তার সাথে এমন অপরাধ হয়েছে।

যেমন ধরুন আমাদের এটা জানা প্রয়োজন যে, যে কোন দেশের সমস্ত জায়গায় কোন পুলিশ স্টেশনের এলাকা অন্তর্গত হয়ে থাকে অথবা ভাগ ভাগ থাকে, বা বলা যেতে পারে কোন কোন থানার এরিয়া তে কোন এলাকা রয়েছে। যখন কোন ব্যক্তির সাথে কোন অপরাধ হয়, তখন কিন্তু সেই ব্যক্তিকে তার এলাকার পুলিশ স্টেশনে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে হবে।

কিভাবে অভিযোগ দায়ের করা যায়?

পুলিশ স্টেশনে গিয়ে থানার ইনচার্জ এর কাছে এমন অভিযোগ দায়ের করতে হবে। যেটা কিনা লিখিত আবেদনপত্র হতে হবে। আর এই আবেদন পত্রের দুটি কপি হতে হবে। একটি কপি পুলিশ থানার ইনচার্জ এর কাছে জমা করে রাখতে হবে।

আর অন্য কপি এর উপর রিসিভিং নিতে হবে অর্থাৎ পুলিশ স্টেশনের সিল লাগাতে হবে আর থানার বড়বাবুর হস্তাক্ষর অথবা সই অবশ্যই হতে হবে।

এমন করার পর পুলিশের কর্তব্য হবে যে, এই মামলাটি ভালো করে যাচাই করা এবং তার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যদি সেই মামলা সন্দেহজনক হয়ে থাকে তাহলে তার উপরে দণ্ডবিধান অনুসারে ধারা 154 অন্তর্গত আইন অনুসারে একটি এফ আই আর দায়ের করতে হবে।

কখনো কখনো এটাও হয় যে, পুলিশ খুবই গুরুতর থেকে আরও গুরুতর মামলারও এফ আই আর দায়ের করেন না। পুলিশ দ্বারা এমন ভ্রষ্টাচার অথবা নিজের থানার রেকর্ড ভালো রাখার জন্য করা হয়ে থাকে। বর্তমানে দেখা যায় যে এফ আই আর দায়ের করার জন্য সাধারণ মানুষ খুবই ঝামেলার মধ্যে পড়েন। কেননা খুব সহজে পুলিশ দ্বারা এফ আই আর দায়ের করা হয় না।

যখন আমরা পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি অথবা আবেদনপত্র জমা করি আর সেই পুলিশ লিখিত অভিযোগ অথবা আবেদনের উপরে কোনরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না, তখন কিন্তু সাধারণ মানুষকে বেশ কিছু সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।

কি করবেন যখন অভিযোগ দায়ের করা না হবে?

কখনো কখনো দেখা যায় যে, পুলিশ দ্বারা কোন আবেদন নেওয়া হয় না। তার পরিবর্তে কোন পীড়িত কে বকাঝকা করে থানা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে আইন পীড়িত ব্যক্তিকে অন্য অধিকার দিয়ে থাকে।

পুলিশ অধীক্ষক এর কাছে অভিযোগ করুন:

ভারতের সর্বোচ্চ বিচারালয় একটি মামলাতে বলেছে যে, যদি এলাকায় থানার ইনচার্জ দ্বারা অভিযোগ দায়ের করা না হয়ে থাকে, তাহলে এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগকারী নিজের অভিযোগ সেখানকার পুলিশ অধীক্ষক এর সমক্ষে দায়ের করতে পারবেন অথবা বলা যেতে পারে সেই পুলিশ অধীক্ষক এর কাছে নিজের মামলাটি জানাতে পারেন।

পুলিস আধিকারিকের কাছে এমন অভিযোগ দায়ের করার আগে, এই আবেদনপত্র জমা করার আগে তিনটি কপি সাথে করে নিয়ে যেতে হবে। যার মধ্যে একটি কপি পুলিস অধীক্ষক এর কাছে জমা করতে হবে, দ্বিতীয় কপি অধীক্ষক এর কার্যালয়ে জমা করতে হবে আর তৃতীয় কপি অভিযোগকারীর রিসিভিং নিয়ে এসে এসপি কার্যালয় গিয়ে সিল, হস্তাক্ষর করতে হবে।

যখন এস পি এফ আই আর দায়ের না করেন তখন কি করবেন?

যদি পুলিশ অধীক্ষক অভিযোগের আবেদন না নিয়ে থাকেন অথবা আবেদন নিয়েও নিশ্চিত সময়ের মধ্যে কাজ না করে থাকেন এবং সেই আবেদন পত্র ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়, এমন পরিস্থিতিতে বিচারালয়ের সহযোগিতা নিতে পারেন। দণ্ডবিধি অনুসারে ধারা 156 (3) যেখানে যেকোনো পীড়িতর অধিকার দেওয়া হয়েছে।

এই ধারা অনুসারে যদি সম্বন্ধিত থানার ইনচার্জ আর পুলিশ অধীক্ষক দ্বারা কোন রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়ে থাকে তাহলে একটি বিচারালয়ের ম্যাজিস্ট্রেট যা কিনা প্রথম শ্রেণীর সেই থানার ক্ষেত্রে মামলার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে, সেই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে আবেদন করতে পারেন।

আবেদন করার আগে রেজিস্টার্ড ডাক দ্বারা নিজের অভিযোগ এর আবেদন পত্রে একটি কপি এস পি কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। এই কপির ডাক দ্বারা পাঠানো আবেদনের রশিদের সাথে 156 (3) এর আবেদন পত্র প্রস্তুত করতে হবে অবশ্যই।

156 কে ধারা আসলে কি?

দণ্ডবিধি অনুসারে ধারা 156 (3) একটি মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম শ্রেণীর এই অধিকার দেওয়া হয়েছ যে, পুলিশকে এফ আই আর দায়ের করার জন্য আদেশ দিতে পারবেন। এমন আবেদন পুলিশকে পার্টি বানিয়ে প্রথম শ্রেণি কোর্ট এ প্রস্তুত করা হয়ে থাকে।

কোট প্রমাণপত্র পর্যবেক্ষণ করার পর, সাক্ষ্য প্রমাণ কে ভালো করে যাচাই করার পর, তারপর মামলার এফ আই আর দায়ের করবেন আর তারপর অনুসন্ধান করার জন্য আদেশ দেওয়া হয়ে থাকে।

যদি ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা এমন আদেশ করা হয়, তখন সম্বন্ধিত পুলিশ থানার ইনচার্জ মামলাতে এফ আই আর দায়ের করে নেবেন তার সাথে সাথে সেই মামলার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

যদি ম্যাজিস্ট্রেট ও এই আবেদন পত্র খারিজ করে দেন, তখন কি করবেন?

যদি প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট এমন আবেদন খারিজ করে দেন, তথা এফ আই আর দায়ের করার জন্য সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করে থাকেন, তখন এমন পরিস্থিতিতে সেই আদেশকে পুনরায় দেখার জন্য সত্য বিচারালয়ের কাছে জমা করা যেতে পারে। সত্য বিচারালয় এমন আদেশের বিষয়টি যাচাই করবে, আর এটা দেখবে যে কোথাও কোনো অন্যায় হয় নি তো !

প্রমানপত্র থাকা সত্বেও যদি এফ আই আর দায়ের করা না হয়ে থাকে, আর এইসব দেখার পর যদি মামলা হয়, তখন সত্য বিচারালয় আদেশ কে উল্টে দিতে পারে। যদি মামলা না হয়ে থাকে তাহলে কিন্তু সত্য বিচারালয় ও এমন অভিযোগের পুনঃ পর্যবেক্ষণ করার জন্য নিষেধ করে দিতে পারে।

যেমন ধরুন রাম রহিমের একটি মামলা যেখানে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম শ্রেণি সত্য বিচারালয় তিন জায়গাতেই কিন্তু ধর্ষণ সম্বন্ধিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। আর অভিযোগ হাইকোর্ট দ্বারা দায়ের করা হয়।

সে ক্ষেত্রে হাইকোর্ট এই আদেশ দিয়ে থাকে যে, এই মামলার অভিযোগ দায়ের করা হোক এবং এফ আই আর দায়ের করার মধ্যে দিয়ে এই মামলার কাজ যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি শুরু করা হোক।

আপনার সাথে যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে এইভাবে আপনি আইনের দিক থেকে অধিকারের উপর ভিত্তি করে নিজের মামলার এফ আই আর দায়ের করতে পারবেন অথবা অভিযোগের আবেদনপত্র জমা করতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *