পশ্চিমবঙ্গ খরিফ ধান সংগ্রহ প্রকল্প 2023 আবেদন অনলাইন {নতুন}

West Bengal Kharif Paddy Procurement Scheme 2023 (পশ্চিমবঙ্গ খরিফ ধান সংগ্রহ প্রকল্প 2023), খরিফ ধান সংগ্রহ প্রকল্প কি? এই যোজনার লাভ কি? পশ্চিমবঙ্গ খরিফ ধান সংগ্রহ প্রকল্পতে কিভাবে আবেদন করবেন? এবং এই যোজনার আরও তথ্য এখানে দেখুন।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের খাদ্যশস্যের মধ্যে অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য হল ধান অথবা চাল। যেটা রাজ্যবাসীর প্রধান খাদ্য দ্রব্যও বলতে পারেন। আগামী বছর জুন মাস পর্যন্ত বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর প্রতিনিয়ত এই বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করার জন্য প্রয়োজন পড়বে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল জমা করে রাখা, তার জন্য একটি নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছে তার নাম হলো, পশ্চিমবঙ্গ খারিফ শস্য অথবা পশ্চিমবঙ্গ খরিফ ধান সংগ্রহ প্রকল্প (West Bengal Kharif Paddy Procurement Scheme)।

সূত্র অনুসারে জানা গিয়েছে যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে খরিপ শস্য অথবা ধান সংগ্রহ করা হবে। এর ফলে সবথেকে বেশি উপকৃত হবেন কৃষকরাই এমনটাই আশা করা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ধান উৎপাদনকারী প্রায় ৭২ লক্ষ কৃষকের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৩ লক্ষ কৃষক এই প্রকল্পে যোগদান করেছেন।

Kharif Paddy Procurement Scheme Benefits & Apply
পশ্চিমবঙ্গ খরিফ ধান সংগ্রহ প্রকল্প 2023 আবেদন অনলাইন {নতুন}

আর এই প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে আরো বেশি কৃষকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। প্রকল্প টি খুব তাড়াতাড়ি চালু করা হবে এবং ধান সংগ্রহের কাজ শুরু করা হবে খুব শীঘ্রই।

তবে প্রতিটি কৃষক অনুসারে প্রায় ৪৫ কুইন্টাল ধান সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তথ্য অনুসারে ১,৮৬৮ টাকা মূল্য দেওয়া হয় গত বছর ৯০ কুইন্টাল ধান সংগ্রহ করার পর। তবে এখনো পর্যন্ত সঠিক দাম নির্ধারণ করা হয়নি।

তবে সেগুলো নির্ধারণ করা হবে কৃষকদের সুবিধা অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই ধানের দাম ঠিক করা হবে বলে জানা গিয়েছে। কৃষকরা যার মধ্যে দিয়ে মজুতদার অথবা আড়তদার দের কাছে ধান বিক্রি না করে সরাসরি সরকারকে যেন ধান দিয়ে থাকে।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ভোটার লিস্ট ডাউনলোড পদ্ধতি

বাংলার ভূমি জমির রেকর্ড অনলাইন ডাউনলোড করার পদ্ধতি

ধান কেনার পরিকল্পনা:

প্রত্যেক বছরের ন্যায় এ বছরও সরকার খরিফ ধান সংগ্রহ করবে কৃষকদের থেকে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অথবা ধান কৃষকের থেকে ন্যায্য মূল্যে কিনে নেবে।

কোথায় এবং কখন ধান কেনা হচ্ছে:

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর সারা রাজ্যব্যাপী কেন্দ্রীয় ধান ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করেছে প্রায় সমস্ত ব্লকের কোন একটি নির্দিষ্ট স্থানে। ধান কেনার জন্য কেন্দ্র গুলি সাধারণত ব্লকের কৃষক, বাজার গুলোতে এবং অন্যান্য কিছু জায়গাতে খোলা হয়েছে।

এই ধান ক্রয় কেন্দ্র ছুটির দিন ছাড়া সমস্ত দিন সকাল ন’টা থেকে বিকেল তিনটে পর্যন্ত, বলতে গেলে প্রত্যেক দিনই চলছে সারা বছর ধরেই। আর এভাবেই চলতে থাকবে ধান সংগ্রহ।

খরিফ ধানের মূল্য:

প্রতি কুইন্টাল অনুসারে ১,৯৪০ টাকা ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ধান ক্রয় কেন্দ্র তে ধান বিক্রি করলেই কুইন্টাল প্রতি কুড়ি টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে, এমনটাই জানা গিয়েছে। 

নিজের নামে পেট্রোল পাম্প ব্যাবসা শুরু করার পদ্ধতি

ধান সরকারের কাছে বিক্রি করার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস অথবা কাগজপত্র:

যেহেতু সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করবে, সেক্ষেত্রে কৃষকদের নাম নথিভুক্ত তো অবশ্যই করতে হবে। আর তার জন্য যে সমস্ত কাগজপত্র গুলো প্রয়োজন পড়বে সেগুলি হল:-

  • আধার কার্ড
  • ভোটার আইডি কার্ড
  • IFSC Code যুক্ত আবেদনকারীর ব্যাংকের পাসবুক
  • জমির নথি অথবা কাগজপত্র
  • জমির বিবরণ ও পরিমাণসহ জমির সমস্ত রকম কাগজপত্র।
  • তার সাথে আবেদনকারীর দুটি পাসপোর্ট সাইজের ফটো, তবে সেটা সদ্য তোলা হতে হবে।

একজন কৃষক একসাথে কতটা ধান বিক্রি করতে পারবেন:

শস্য উৎপাদনের পর তার ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারাটাই হলো কৃষকদের সবথেকে বেশি আনন্দের বিষয়। আর কষ্টের দাম, তাই সর্বাধিক ৪৫ কুইন্টাল পর্যন্ত এক এক জন কৃষক একসাথে বিক্রি করতে পারবেন। এই ধান একবারে বা কিস্তিতে বিক্রি করা যাবে।

যদি কোন কৃষক মনে করেন যে, একসাথে ৪৫ কুইন্টাল ধান বিক্রি করার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান তার কাছে নেই, তাহলে কয়েক কিস্তিতে সর্বাধিক ৪৫ কুইন্টাল পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন।

ধানের মান:

ধানের মান নিয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকতে পারে যে, কি ধরনের ধান বিক্রি করা যাবে। তবে বলে রাখা ভালো যে, যেহেতু খাদ্যশস্য তাই সুন্দর ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকাটা জরুরী। আর সেক্ষেত্রে কৃষকরা যে সমস্ত ধান বিক্রি করবেন সেই ধানের যে গুণগতমান থাকতে হবে সেগুলি হল:-

  • ধান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং শুকনো থাকতে হবে।
  • পরিপক্ক হতে হবে।
  • সঠিক গুণমান উপযুক্ত পুষ্টিসম্পন্ন ও একই ধরনের সাইজ বার রঙের হতে হবে।
  • ধানে কোনো রকমের ছত্রাক সংক্রমণ যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • মোটা ধান বেশিরভাগ কেনা হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে:-

গুণগত মান নির্ধারণের ওপর সর্বাধিক মাত্রা:

  • নষ্ট হয়ে যাওয়া, বিবর্ণ, অঙ্কুরিত, পোকায় কাটা ধান ৫%
  • জৈব মিশ্রন/ অজৈব মিশ্রন ১%
  • অপরিপক্ক এবং কুঞ্চিত ধান ৩%
  • নিম্ন জাতের মিশ্রিত ধান ৬%
  • আদ্রতা ১৭%
  • এছাড়া এই গুণমান পরীক্ষার জন্য প্রতিটি ধান ক্রয় কেন্দ্র তে উপযুক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নতুন লিস্ট ডাউনলোড করুন

ধান বিক্রির সময় কোন পরিমাণ বাদ দেওয়ার নিয়ম আছে কিনা:

আগেই বলা হয়েছে যে ধানের গুণগত মান অনুযায়ী ধান কেনা হবে, যদি ধান গুণগত মান অনুযায়ী না হয়, তবে সেই ধান কেনার কথা নয়। তবে অন্যদিকে দেখলে কৃষক ভাইদের ধান আনা-নেওয়ার কষ্টের কথা চিন্তা করে, কিছু পরিমাণ ধান বাদ দিয়ে সেই ধান কেনা হবে। তবে অবশ্যই সেটা আলোচনা সাপেক্ষ।

যদি কৃষক তার ধান পরিষ্কার করে মান অনুযায়ী না আনেন, তবেই এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে আশা করা যায় সমস্ত কৃষক বন্ধু এই সমস্ত মান অনুযায়ী নিজেদের ধান গুলিকে সুন্দর ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।

ভেজা ধান/ ধানের আদ্রতা: 

ধানের সর্বাধিক আদ্রতার মান  হলো ১৭% এর বেশি আদ্রতা থাকলেও ধান সাধারণত বাতিল করা হয়ে থাকে। কেননা সংরক্ষিত করে রাখলে সেই আদ্রতা অনুসারে সেই ধানের উপরে ছত্রাক জন্মাতে পারে। পরে সেই ধান থেকে চাল উৎপন্ন হলে সেটা অনেক ক্ষেত্রে খাওয়ার উপযুক্ত নাও হতে পারে।

ধান বিক্রির ক্ষেত্রে অসুবিধা হলে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে:

প্রতিটি কাজে কোন না কোন অসুবিধা দেখা দিতেই পারে, তার জন্য একেবারে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে চলবে না। যদি ধান বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো রকম অসুবিধা হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে জেলা বা মহাকুমা নিয়ামকের, সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এর করণে যোগাযোগ করা যেতে পারে, এছাড়া খাদ্য দপ্তর এর টোল ফ্রি নাম্বার ১৮০০-৩৪৫-৫৫০৫ / ১৯৬৭ এ ফোন করেও আপনার সমস্ত রকম সমস্যার কথা জানাতে পারেন, একেবারে বিনামূল্যে।

আর হ্যাঁ যে বস্তা তে করে কৃষকরা তাদের ধান নিয়ে আসবেন, ধান বিক্রির পর সেই সমস্ত বস্তা গুলো কৃষকরা পুনরায় ফেরত পাবেন।

বাংলা আবাস যোজনার আবেদন পক্রিয়া ও ডকুমেন্টস

ধান ক্রয় কেন্দ্রে নাম নথিভুক্ত করুন:

ধান ক্রয় কেন্দ্র তে কৃষকরা তাদের নিজেদের নাম অবশ্যই নথিভুক্ত করে রাখবেন, আগে যোগাযোগ করে নাম লিখিয়ে, তারপরে ধান কবে নিয়ে আসতে হবে সেটা জেনে রাখলে কৃষকদের সুবিধা হবে। ইতিমধ্যে অনেক কৃষক নাম নথিভুক্ত করে রেখেছেন। এখন পর্যন্ত যেসব কৃষক বন্ধু নাম নথিভুক্ত করেননি, আগে থেকেই নাম নথিভুক্ত করে রাখুন।

পশ্চিমবঙ্গ খরিফ ধান সংগ্রহ প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরন: 

অনলাইনের মাধ্যমে সমস্ত কৃষক বন্ধু এই প্রকল্পে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন কয়েকটি সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করে:-

Step 1. সবার প্রথমে এই অফিশিয়াল ওয়েবসাইট টিতে যেতে হবে, https://procurement.wbfood.in/

West Bengal Kharif Paddy Procurement Scheme at procurement.wbfood.in
West Bengal Kharif Paddy Procurement Scheme at procurement.wbfood.in

Step 2. এরপর মেনু (Menu) অপশন এ গিয়ে ফার্মার লগইন (Fermer Login) অপশন এ ক্লিক করুন।

Step 3. দেখবেন একটি নতুন ওয়েব পেজ ওপেন হবে, সেখানে নাম নথিভূক্ত করার জন্য একটি ফর্ম পাবেন।

Step 4. রেজিস্ট্রেশন নাম্বার এবং আবেদন কারীর ফোন নাম্বার সহ আরো অন্যান্য কাগজপত্র অথবা শংসাপত্র গুলি এন্টার করতে হবে।

Step 5. এরপর পাশে থাকা ক্যাপচা কোড (Captcha Code) সঠিকভাবে পূরণ করুন।

Step 6. তারপর সমস্ত কিছু ভালোভাবে চেক করে নিন, কোনরকম ভুল-ত্রুটি আছে কিনা। এরপর সাবমিট (Submit) বাটনে ক্লিক করুন। আপনার নাম নথীভুক্ত করার প্রক্রিয়াটি সফল হয়েছে।

এছাড়া কোনো জরুরি কারণে আগে থেকে ধান বিক্রি করতে হলে, সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এর শংসাপত্র নিয়ে ধান ক্রয় কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন, যে কোন কৃষক। তাছাড়া একদিনে ১৫ থেকে কুড়ি জন কৃষকের থেকে ধান কেনা যেতে পারে, এমনটাই জানা গিয়েছে। তবে পরবর্তীতে সেটা কৃষকদের সংখ্যা বাড়তেও পারে।

ধান বিক্রির পর ধানের দাম কিভাবে পাওয়া যাবে:

এত কষ্ট করে শস্য ফলিয়ে সেই ধান কষ্ট করে ধান ক্রয় কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা তো হলো তবে সেই কষ্টের দাম হাতে না পেলে কষ্টটা ভুলবেন কি করে? তাই না! এবার হয়তো মনে হতেই পারে যে ধান বিক্রির পর সেই টাকা কিভাবে পাবেন, তাই তো!

ধানের দাম সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক একাউন্টNEFT / RTGC এর মাধ্যমে দেওয়া হবে, ধান বিক্রি করার তিনদিনের মধ্যেই। তবে ব্যাংক একাউন্টের বিবরণ যদি সঠিকভাবে না দেওয়া থাকে, সে ক্ষেত্রে একটু হলেও দেরি হতে পারে। তাই সমস্ত রকম ডকুমেন্ট যখন জমা দেবেন ব্যাংকের তথ্য অবশ্যই সঠিক ভাবে দেবেন।

পশ্চিমবঙ্গ খরিফ ধান সংগ্রহ প্রকল্প (West Bengal Kharif Paddy Procurement Scheme) কৃষকদের জীবনে নিয়ে আসবে এক নতুন অধ্যায়। ধান বিক্রি নিয়ে আর কোন রকম চিন্তা করতে হবেনা। কৃষকদের বলতে গেলে সমস্ত ধান কিনে নেবে সরকার। সেই অনুসারে ধানের দাম সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক একাউন্টে।

এর জন্য চটপট নিজের নাম নথিভুক্ত করে ফেলুন ধান ক্রয় কেন্দ্রে, আর নিজের কষ্টের মাধ্যমে ফলানো ফসল সঠিক জায়গায়, সঠিক ভাবে বিক্রি করে নিজের ধানের মূল্য পাবেন কয়েক দিনের মধ্যেই।

HomeClick here
Official WebsiteClick here

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *