ভারতে সমকামী বিবাহ কি আইন বৈধ না অবৈধ? আইনি নিয়ম জানুন

সমকামী বিবাহ কি? সমকামী বিবাহ করা কি অপরাধ? ভারতে সমকামী বিবাহ নিয়ে আইন কি বলে? জানুন ভারতে সমকামী বিবাহ কি আইন বৈধ না অবৈধ?

ভারতে সমকামী বিবাহ আইনসম্মত কিনা তা এখনও একটি উত্তর নয়। ভারতে সমকামী বিবাহকে বৈধ করে তুলতে চলমান বিতর্ককে কেউ উপেক্ষা করতে পারে না, তবে এপেক্স কোর্ট সমকামী সম্পর্কের বিষয়ে সত্যই ট্যাবু বা নিষিদ্ধ বিষয়টির বৈধতা দিয়েছে।

যদিও, তরুণ ভারত এখনও চিন্তা করে আমরা কখন গর্বের সাথে বলব যে এখন ভারতে সমকামী বিবাহ আইনী। ২০১৮ সালে ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী সমকামী বিবাহ বৈধ করার বিষয়ে ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে। এ ব্যাপারে যুক্তি হচ্ছে কে কাকে বিবাহ করবে এটা যার যার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

ভারতে সমকামী বিবাহ কি আইন বৈধ না অবৈধ?
ভারতে সমকামী বিবাহ কি আইন বৈধ না অবৈধ?

এখানে রাষ্ট্র বা সমাজ সিদ্ধান্ত দিতে পারেনা, বা ঠিক করে দিতে পারেনা যে বিয়ে কেবল বিপরীত লিঙ্গের মানুষের মধ্যেই হতে পারে।

সুপ্রিয় পাঠক আজ আমরা ভারতে অন্যতম আলোচিত প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করব।চলুন দেরী না করে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। ভারতে সমকামী বিবাহ কি আইনগতভাবে বৈধ?

সমকামী বিবাহকে ঘিরে ইতিহাস কী?

বছরের পর বছর ধরে, ভারতে সমকামী বিবাহ আইনী বা না হওয়ার বিষয়ে বহু লোক বিভিন্ন প্রবন্ধ লিখেছেন, যেহেতু বিষয়টি সবসময়েই একটি স্পর্শকাতর বিষয় ছিল।

বিভিন্ন ধর্মে সমাকামীতা সরাসরি নিষিদ্ধা৷ সেক্ষেত্রে সমকামী বিবাহকে আইনত বৈধ ঘোষণা করা খুব বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। এছাড়াও ভারতে সমকামী বিবাহকে বৈধ করে তোলার বিষয়ে বহু বিতর্ক চলছে।

সমকামী বিবাহকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিহাস এলজিবিটি সম্প্রদায়ের আকাঙ্ক্ষার সাক্ষী এবং প্রমাণ। যেখানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বিতর্ক ও আলোচনা চলেছে। কারণ একপক্ষ ধর্মীয়, নিজস্ব যুক্তি, বংশবিস্তার, সামাজিকতা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে সমকামী বিবাহকে সমাজ ধ্বংশ এবং বিকৃত মানসিকতার কাজ বলে আখ্যায়িত করেছে।

আর একপক্ষ বিবাহ যার যার নিজের পছন্দ, তারা বংশবিস্তার করবে কিনা, অথবা কার সাথে জীবন অতিবাহিত করবে তা একান্তই তাদের নিজেদের বিষয়। এ বিষয়ে সমাজ বা দেশের আইন মূল সিদ্ধান্ত দেবে এটা ঠিক নয়।

প্রশ্ন আসতে পারে,নারী-পুরুষ স্বাভাবিক আকর্ষণবোধ বাদ দিয়ে কেন সমকামী বিয়ের চিন্তার প্রচলন হল। এটাতো স্বাভাবিক নয়, যেহেতু সমলিঙ্গের দুইজন মানুষ বংশবিস্তার করতে পারেনা।

এর উত্তর পেতে হলে আমাদের প্রাচীন ইতিহাস জানতে হবে। ঐতিহাসিকভাবে বলতে গেলে সমকামী বিবাহ প্রচলন হয় রোমান সাম্রাজ্যের সময় থেকে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে রোমের প্রথম সম্রাট, নেরো একই লিঙ্গের ব্যক্তিকে বিবাহ করেছিলেন। সেই সময়ের ঐতিহাসিক বিভিন্ন লিপি বা পুস্তক থেকে জানা যায় যে রাজকীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই নেরোর বিবাহ অন্য পুরুষের সাথে হয়েছিল।

সুতরাং, কেউ দেখা যাচ্ছে যে সমকামী বিবাহের পুরো ধারণাটির প্রচলন শুরু হয়েছে প্রাচীন কাল থেকে। আজও, বহু লোক সমকামী বিবাহের ধারণাটি আইনানুগভাবে বৈধ হোক সেটা চায়। কিন্তু বেশীরভাগ মানুষই এই ধারণার বিরোধী এবং এইরকম মানসিকতাকে বিকৃত মানসিকতা বলে মনে করে।

সমকামী বিবাহের ধারণা এবং কারণ

সমকামী বিবাহ বা একই লিঙ্গ এর বিবাহ বলতে একই লিঙ্গের দুইজন ব্যক্তির মধ্যে বিবাহ হওয়াকে বোঝায়। যেমন দুইটা মেয়ের মধ্যে বিবাহ হওয়া অথবা দুইটি ছেলের মধ্যে বিবাহ হওয়া। বিবাহের পর তারা একসাথে বসবাস করবে, সংসার করবে, ঠিক যেভাবে সাধারণ বিবাহে দুইজন নারী, পুরুষের মধ্যে বিবাহ হলে তারা একসাথে বাস করে।

২০১৯ সালে, সমকামী বিবাহ অনেক দেশে আইনগত স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এসব দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, ব্রাজিল, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ইত্যাদি। এছাড়া তাইওয়ান এবং কোস্টারিকাও সমকামী বিবাহকে বৈধতা দিতে চলেছে।

এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি গবেষণা চালানো হয়, যার ফলাফল হল- সমকামী বিবাহ প্রবর্তনের পরে সেসব দেশে আত্মহত্যার হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পেয়েছিল।

সমকামী বিবাহের স্বীকৃতি পাওয়া দেশের নাগরিকদের নাগরিক এবং মানবিক অধিকার উভয়ের মধ্যেই পড়ে। এমনকি সমকামী বিবাহ সবচেয়ে বেশী সমর্থন করে সুশীল নাগরিক এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

সমকামী বিবাহকে বৈধতা দেওয়ার কারণগুলি কী কী?

মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, সঙ্গীর কাছে তাদের শারীরিক ও মানসিক চাহিদা, সন্তান নেওয়া না নেওয়ার মানসিকতা এগুলো সম্পূর্ণটাই তাদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।

সমাজ আমাদের শুরু থেকেই কিছু নিয়ম-নীতির সাথে পরিচয় করায় আর তা থেকেই আমরা জানতে পারি যে, কি কি করণীয় আমাদের।

এই নিয়ম ভেঙে যদি কারো মনে হয় যে সে স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে গিয়ে নিজের লিঙ্গের কারো সাথে তার জীবন কাটাতে চায় তাহলে তার সেই অধিকার তাকে দেওয়া উচিত। আধুনিক আইন সেই বিষয়েই স্বীকৃতি দিয়েছে। এজন্য ভারতে এখন সমকামী বিবাহ আইনত বৈধ।

সমকামী বিবাহকে বৈধ করার পক্ষের যুক্তি

সাধারণত সমকামী বিবাহের পক্ষে আইন কেন রায় দিল এটা জানতে সমকামী বিবাহের সুবিধাগুলো জানা জরুরী। সমকামী বিবাহের পক্ষের মূল যুক্তি হচ্ছে এতে করে বিবাহ বিচ্ছেদের হার কমে যাবে।

নারী-পুরুষের মধ্যে মনের অমিল বা পরকীয়ার যে বিষয়টি রয়েছে, সমকামী বিবাহে এই হার খুবই কম। তাছাড়া দুইজন একই লিঙ্গের মানুষ বিবাহ করলে তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে একমত পোষণ করে।

বিপরীত লিঙ্গের বিবাহে যেখানে অধিকার নিয়ে দ্বিমত থাকে। সমকামী বিবাহে একই লিঙ্গের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, একে অন্যের ফিলিংস ভালভাবে বুঝতে পারার বিষয়টা অনেক বেশী থাকে যা তাদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।

যারা এন্টি গড বা কোন ধর্মের অনুসারী নন, তাদের মধ্যেই সমকামী বিবাহের হার বেশী। কারণ বিভিন্ন ধর্মে সমকামী বিবাহ নিষিদ্ধ।

শেষ কথা

ভারতে সমকামী বিবাহ বৈধ নাকি নয় এটা অনেক আলোচিত একটি প্রশ্ন ছিল। দীর্ঘদিন আদালতে বিষয়টি রায়ের অপেক্ষায় ছিল। কারণ আমাদের দেশে ধর্মীয় এবং সামাজিকভাবে সমকামী বিবাহের পক্ষে জনমত খুবই কম।

দিন দিন প্রযুক্তি উন্নত হওয়ার সাথে ধর্ম মেনে চলার মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, সাথে বাড়ছে নাস্তিক এবং স্বাধীনচেতা মানুষের সংখ্যা। তাদের দাবী, তারা জীবনসঙ্গী হিসেবে যাকে খুশি বেছে নিতে পারে। এটা তাদের ভাল থাকা না থাকার উপর নির্ভর করে।

আর এই মতবাদের উপর ভিত্তি করেই এবং আরও কিছু কারণ ও গবেষণার ফলাফল যা,আর্টিকেলে উল্লেখ করা হয়েছে তারজন্যই ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্নদেশে সমকামী বিবাহ আইনগতভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আশা করি সমকামী বিবাহ সম্পর্কে ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছি।সুপ্রিয় পাঠক পোস্টটি পড়ে আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না। এরপর কোন বিষয় নিয়ে জানতে চান তা আমাদের কমেন্ট করে জানান। আমরা পরবর্তীতে সে বিষয়ে তথ্য নিয়ে হাজির হব। আজকের মত এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Comment