প্রেমিক বা প্রেমিকা ব্ল্যাকমেল করলে কি করবেন? আইনি নিয়ম ও পদক্ষেপ

Legal Steps if Boyfriend r Girlfriend Blackmail in Bengali: যদি প্রেমিক বা প্রেমিকা ব্ল্যাকমেল করে আপনার ক্ষতি করতে চাই তাহলে কি করবেন? কিভাবে প্রেমিক বা প্রেমিকার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন? | আসুন জেনে নিন প্রেমিক বা প্রেমিকা ব্ল্যাকমেল করলে আপনার আইনি অধিকার ও পদক্ষেপ।

বর্তমানে ভালোবাসা বিষয়টি সকলের কাছে বেশ প্রাধান্য পেয়ে থাকে। আর প্রেমিক-প্রেমিকা তাদের জীবনে বিভিন্ন রকমের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন একে অপরের প্রতি। তবে সব ক্ষেত্রে কিন্তু সম্পর্ক মিষ্টি নাও হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে। সেখানে প্রেমিক অথবা প্রেমিকা ভালোবাসার এই বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে ব্ল্যাকমেল পর্যন্ত করতে পারেন।

তবে এই বিষয়টি কোন মানুষের ভাবনাতে আঘাত হানতে পারে। এমন ঘটনা প্রায়ই চোখে পড়ে। যেখানে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে আর বলতে গেলে খুবই খারাপ পরিস্থিতিতে চলে যায়। যেখানে নিজের প্রিয় সঙ্গী সবথেকে বেশি বিপদজনক হয়ে ওঠে। সেখানে আর অন্য কোন কিছু মাথায় আসে না বললেই চলে।

দেখা যায় এমন কিছু কথা এই সম্পর্কের মধ্যে বলতে যেখানে একে অপরকে ব্ল্যাকমেল করে থাকেন, যেমন ধরুন “যদি তুমি আমার সমস্ত কথা না শোনো, তাহলে কিন্তু তোমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেব, অন্য কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গ্রেফতার করিয়ে দেব।”

প্রেমিক বা প্রেমিকা ব্ল্যাকমেল করলে কি করবেন? আইনি নিয়ম ও পদক্ষেপ
প্রেমিক বা প্রেমিকা ব্ল্যাকমেল করলে কি করবেন? আইনি নিয়ম ও পদক্ষেপ

অথবা “যদি তুমি আমার সাথে সম্পর্ক না রাখ তাহলে তোমার সাথে আমার যে ছবি গুলো রয়েছে সেগুলি সমস্ত জায়গায় পোস্ট করে দেব।” এমনি অথবা ব্ল্যাকমেল ধরনের কথাবার্তা আপনাকে বাস্তবে একটি কঠিন জায়গাতে ফেলে দিতে পারে।

যেখান থেকে বেরিয়ে আসা আপনার কোন ভাবেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। এইভাবে কোন ভালো পরিস্থিতিকে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করাকে বলা হয় এক কথায় ব্ল্যাকমেল করা।

হয়তো কোনো প্রেমিক অথবা প্রেমিকা তার সঙ্গীর সাথে থাকতে চাইছে না, সে ক্ষেত্রে তাকে জোর করে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য ব্ল্যাকমেল করা হয়ে থাকে।

অথবা টাকা-পয়সা এবং যৌন চাহিদা এ বিষয়ে অনেক খানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তখন এমন এমন কিছু বিষয়ের উপরে ভিত্তি করা হয়, যা এক কথায় আইনত অপরাধ।

ব্ল্যাকমেল করা শুধুমাত্র তার সম্মান, আর্থিক ব্যবস্থা কে নিম্নস্তরের নিয়ে আসে না, তার সাথে সাথে সব থেকে ভালবাসার মানুষটির উপর দুর্ব্যবহার প্রকাশ পায়। যেটা খুবই কষ্টদায়ক এবং এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ শক্তি খুবই কম মানুষের মধ্যে থাকে।

এমনকি অনেকে হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন তার জীবনযাত্রা একেবারে নিজের হাতে কন্ট্রোল করে রাখার জন্য। তার সাথে সাথে ধর্ষন অথবা যৌন হামলার মত এরকম অপরাধের সাথে আপনাকে হুমকি দিয়ে থাকে অথবা ব্ল্যাকমেল করে থাকে, তাহলে এটি খুবই খারাপ পরিস্থিতি এবং এই অপরাধ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

এমন পরিস্থিতি আপনি কিভাবে সামাল দিতে পারবেন?

নিজের জায়গাতেই স্থির থাকুন : 

যদি আপনার মনে হয় যে, আপনার জন্য প্রতিরোধ করা সুরক্ষিত, তাহলে সবথেকে ভালো হবে এবং সবথেকে ভালো বিকল্প হল আপনি আপনার জায়গায় স্থির থাকুন।

আপনি যদি কোন অপরাধ না করে থাকেন, তাহলে কখনই আপনার জায়গা থেকে এক বিন্দুও সরে যাবেন না। যার লাভ বিপরীত পক্ষ নিতে পারে। তাছাড়া সেই পক্ষকে অতিরিক্ত ক্ষতি করার বিষয় থেকে বিরত রাখার জন্য এই বিষয়টি আপনার সর্বপ্রথম মাথায় রাখতে হবে।

সে যা বলবে তা কখনোই মেনে নেবেন না: 

যদি আপনি তেমন অপরাধমূলক কাজ না করে থাকেন তো তার সাথে সাথে পরবর্তী কোনো রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন না যা আপনাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

সাহায্য করতে পারে এমন ব্যক্তিদের কাছে যান : 

এই বিষয়ে আপনার বন্ধু-বান্ধব, অভিভাবক, পরিবারের অন্যান্য সদস্য যারা আপনাকে এই বিষয়ে সাহায্য করতে পারবেন, তাদের কাছে এই বিষয়টি সম্পূর্ণ রূপে খোলাখুলি বলুন এবং তাদের উপস্থিতিতে এই বিষয়ের জন্য সাহায্য নিতে পারেন। তাছাড়া তাদের সহযোগিতা তে কঠিন থেকে কঠিনতম সময়ে আপনি অনেক খানি  সুরক্ষিত অনুভব করতে পারবেন।

সমস্ত প্রমানপত্র গুলি বাঁচাতে পারেন : 

এই বিষয়ে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যেটা সেটা হল সমস্ত রকম প্রমাণপত্র গুলি বাঁচিয়ে রাখা। যা কিনা আপনার কঠিন থেকে কঠিনতম পরিস্থিতিতে অনেক খানি সহযোগিতা করতে পারবে। যেমন ধরুন আপনার সমস্ত রকম টেক্সট, ই-মেইল, সোশ্যাল মিডিয়া, ভয়েস মেসেজ, যেগুলি আপনি পাঠিয়েছেন এর মধ্যে দিয়েও কিন্তু অনেক সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সেগুলি নিয়ন্ত্রনে রাখুন এবং আপনার কাছে সুরক্ষিত রাখুন। কোন রকম পরিস্থিতিতে যেন এগুলির খারাপ ব্যবহার না হয়ে থাকে। স্ক্রিনশট নিতে পারেন তার সাথে সাথে সেগুলিকে একটি সুরক্ষিত জায়গায় রেখে দিন।

যেমন ধরুন পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত ফাইল যেখানে এই সমস্ত বিষয়গুলি রাখতে পারেন, অথবা যদি আপনার সঙ্গীর কাছে যদি আপনার কম্পিউটার অথবা ফোন পর্যন্ত জানাশোনা থাকে, তাহলে একজন বিশ্বস্ত বন্ধু বান্ধব অথবা পরিবারের যে কোনো সদস্য কে আপনি এবিষয়ে সব কিছু জানাতে পারেন। তাছাড়া আইন অনুসারে যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলা যেতে পারে।

তাছাড়া যখন আপনাকে আপনার সঙ্গী ব্ল্যাকমেল করবে তখন অবশ্যই ঠান্ডা মাথায় সমস্ত রকম প্রমাণপত্র এবং যা কিছু ছবি, মেসেজ রয়েছে সবকিছুই আপনার নিজের তত্ত্বাবধানে রাখার চেষ্টা করুন। কেননা যে গুলির উপর ভিত্তি করে আপনার সঙ্গী আপনার সাথে ব্ল্যাকমেল করতে পারে।

যে যদি আপনি তার কথা অনুযায়ী কাজ না করেন, তাহলে ঐ সমস্ত ছবি অথবা মেসেজ পাবলিক করে দেবে অথবা বিভিন্ন রকম সোশ্যাল মিডিয়ার সাইটে আপলোড করে দেবে, বা পোস্ট করে দেবে।

এছাড়া এমন পরিস্থিতিতে কিন্তু আইন খুবই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাই ঠান্ডা মাথায় পরিবারের সদস্যের সাথে এবং কোন উকিলের সাথে পরামর্শ করে আইনের পথে পা বাড়াতে পারেন। তবে অবশ্যই সমস্ত কিছু ভেবেচিন্তে তবেই আইনের পথে পা বাড়াবেন।

না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। কিন্তু যদি মনে করেন যে আপনি আপনার জায়গাতে সঠিক রয়েছেন, তাহলে আইন আপনার বিচার অবশ্যই পাইয়ে দেবে। আর এই বিষয়ে এই অপরাধ আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য দণ্ডনীয় অপরাধ।

এমন অনেক প্রেমিক-প্রেমিকা দেখা গেছে যারা কিনা এমন ব্ল্যাকমেল করে ও আইনের কাছে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। কেন না কেউ চাইবেন না, তাদের সুন্দর জীবনযাত্রা জেলের মধ্যে কাটাক, তাই নয় কি !

তাই এমন পরিস্থিতিতে একেবারেই চুপচাপ না থেকে অবশ্যই পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। তবে সাবধানতার সাথে এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে। তাহলে খুবই সহজ ভাবে আপনি এমন কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন অনায়াসেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *