রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ ধরলে কি করবেন? আপনার ট্রাফিক অধিকারগুলি জানুন

Legal Rights Related To Traffic Police: আপনাকে ট্রাফিক পুলিশ ধরলে কি করবেন? আপনার ট্রাফিক অধিকার গুলি কি কি? কিভাবে ট্রাফিক পুলিশের হেনস্থা থেকে রেহাই পাবেন? জানুন ট্রাফিক পুলিশ নিয়ে আপনার অধিকার সম্পর্কে সবকিছু।

যানবাহনে চলাচল করা বর্তমান সময়ে আমাদের একটি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এমন কোনো মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না যাকে কিনা কোন ট্রাফিক পুলিশ রাস্তাতে একবার হলেও ধরেননি। অনেকেই হয়ত ভয় পেতে পারেন যে ট্রাফিক পুলিশ ধরলে আপনি কি করতে পারেন।

রাস্তায় চলাচল করতে গেলে বেশ কিছু নিয়ম কানুন, ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হয়। তবে কিন্তু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে যাতায়াত, না হলে যে কোন ক্ষেত্রে অ্যাক্সিডেন্ট অথবা দুর্ঘটনা হতে পারে।

Legal Rights Related To Traffic Police in Bengali
Legal Rights Related To Traffic Police in Bengali

এমন পরিস্থিতি এসেছে যে যেখানে আইন থাকা সত্ত্বেও ট্রাফিক পুলিশ যে কোন গাড়ি আরোহীর সাথে অন্য রকম ব্যবহার করছেন। তাছাড়া বেশ কিছু কারণ আছে যেগুলোর জন্য আপনার গাড়িটি ধরতে পারে ট্রাফিক পুলিশ। এ বিষয়ে জানা যাক বেশ কিছু তথ্য:

আপনাকে কেন গাড়ি থামাতে বলা হলো?

একজন ট্রাফিক পুলিশ যেকোনো সময় যেকোনো রকম পরিস্থিতির জন্য আপনার গাড়িটি থামাতে বলতে পারেন। সেটা হতে পারে আপনার

  • ড্রাইভিং এ কিছু ভুল থাকতে পারে।
  • এছাড়া যাতায়াতের জন্য কোন কিছু আইন লংঘন করেছেন এমন বিষয় আপনাকে ধরতে পারে।
  • অথবা নেশা করে গাড়ি চালাচ্ছেন তখনো গাড়ি থামাতে বলতে পারে।

রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ ধরলে কি করবেন? দেখুন ভিডিও

যৌন হয়রানি আইনি অভিযোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানুন

ট্রাফিক পুলিশ অথবা ট্রাফিক আধিকারীক এর অধিকার:

  • একজন ট্রাফিক পুলিশ যেকোনো আরোহীকে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং সেই গাড়ির সম্পর্কিত আরো অন্যান্য কাগজ পত্র দেখতে চাইতে পারেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য। যেমন ধরুন রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণপত্র, গাড়ির বীমার প্রমাণপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস পারমিট ইত্যাদি।
  • আর সেই কারণে যে গাড়ি নিয়ে আপনি রাস্তায় বের হবেন সেই গাড়ির সমস্ত রকম কাগজপত্র যেন আপনার সাথেই থাকে। আর যদি ট্রাফিক আইন সম্পূর্ণরূপে পালন করে চলেন তাহলে কিন্তু আর কোনরকম অসুবিধায় পড়তে হবে না আশা করা যায়।
  • এছাড়া এখন ডিজিটাল যুগ। তাই গাড়ির সমস্ত রকম কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স সবকিছু মোবাইলে আপনি রাখতে পারবেন সেভ করে। যদি কাগজপত্রগুলো বহন করে নিয়ে যেতে আপনার অসুবিধা হয় তো।
  • যখন ট্রাফিক পুলিশ আপনাকে ধরবেন, সে ক্ষেত্রে এগুলো দেখালে আপনি ছাড় পেতে পারেন।
  • এছাড়া ট্রাফিক সিগনাল মেনে চলাটা আপনার জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য বলতে পারেন।
  • তাই কখনোই ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে গাড়ি চালাবেন না।
  • যদি আপনি ড্রাইভিং লাইসেন্স, পারমিট এবং গাড়ির সমস্ত রকম কাগজপত্র ছাড়া সেই গাড়িটি চালিয়ে থাকেন, যেখানে সেই গাড়ির কোনরকম রেজিস্ট্রেশনই করা নেই, সেক্ষেত্রে কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ আপনার গাড়িটি আটকাতে পারেন।
  • একজন পুলিশ আধিকারিক ওয়ারেন্ট ছাড়াই আপনাকে কিন্তু গ্রেফতার করতে পারেন, যদি আপনি অপরাধমূলক কোন কাজ করে থাকেন গাড়ি চালানোর সময়, অথবা বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে থাকেন।
  • তাছাড়া যদি নেশা করে গাড়ি চালিয়ে থাকেন তখন কিন্তু কোনোরকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই আপনাকে গ্রেফতার করতে পারে সেই পুলিশ আধিকারিক।

ভারতের পারিবারিক হিংসার আইন ব্যাবস্থা সম্পর্কে সবকিছু জানুন

যখন আপনাকে কোন কারণে আটকানো হবে তখন আপনি কি করবেন ?

যাতায়াতের সময় যখন পুলিশ অথবা ট্রাফিক পুলিশ আপনাকে গাড়িতে থামানোর জন্য বলবেন, তখন অবশ্যই রাস্তার একপাশে গাড়িটি রেখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে হবে। যদি সেই পুলিশ আধিকারিক অথবা ট্রাফিক পুলিশ দেখতে চেয়ে থাকেন।

এছাড়া আপনি গাড়ি আটকানোর কারণ জিজ্ঞাসা করতেই পারেন, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে না করাটাই বাঞ্ছনীয়। কেননা তর্ক – ঝামেলার মধ্যে না যাওয়াটাই ভালো।

যদি কোনো কারণে আপনি ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা কোন নিয়ম লংঘন করে থাকেন, আর তারপরে যদি আপনার গাড়ি আটকানো হয়, সে ক্ষেত্রে সেই পুলিশ আধিকারিক কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার কারণ এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বোঝাতে পারেন। যদি আপনার একান্তই প্রয়োজন অনুসারে সেটা লংঘন করে থাকেন তো।

এছাড়া যদি আপনার সম্পূর্ণরূপে ভুল থাকে অথবা অপরাধ করে থাকেন এ বিষয়ে, তাহলে কিন্তু অবশ্যই সেই পুলিশ আধিকারিক এর কাছে ক্ষমা চাইবেন এবং বলবেন যে আপনি কি কারণে এটি করতে বাধ্য হয়েছেন।

ওই সময় আপনার জানাশোনা কোনো পুলিশকর্মী অথবা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম কখনোই ব্যবহার করবেন না। যে আপনি সেই ব্যক্তির সাথে কেমন সম্পর্ক বজায় রাখেন, এটা কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে।

যদি কোন পুলিশ আধিকারিক আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স টি নিয়ে নেন সেখানে কিন্তু আপনি কোন ফাইন দিয়ে সেই ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করতে পারেন অথবা তিনি যেমনটা বলেন তেমনটা করতে পারেন।

না হলে কিন্তু আদালত থেকে নোটিশ দেয়া হবে। তারপর যদি সেই আদালতে উপস্থিত হতে আপনি না পারেন সে ক্ষেত্রে কিন্তু আপনার নামে ওয়ারেন্ট বের হবে। সেটা কিন্তু অনেকটাই ঝামেলার ব্যাপার।

যদি কোনো উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে কিন্তু সঠিক ফাইন দিয়ে আপনার অপরাধ স্বীকার করে নেবেন।

ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ এর জন্য কত টাকা খরচ হতে পারে?

পুলিশ আধিকারিক অযথা হেনস্থা করলে কি করবেন?

যাতায়াতের পথে যদি কোনো পুলিশ আধিকারিক দ্বারা আপনি অযথা হেনস্থা হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে কি করবেন?

কথায় আছে “অন্যায় করা আর অন্যায় সহ্য করা একই অপরাধ” তাই কখনোই কোনো পুলিশ আধিকারিক এর অবৈধ চাওয়া অথবা ফাইন মেনে নেবেন না।

তাতে যদি আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নেন, তাহলেও নিতে দিন। সে ক্ষেত্রে কখনোই ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।

তারপর সেই পুলিশ আধিকারিক এর নাম, যে নাম্বার লেখা থাকে পুলিশের পোশাক অথবা শার্ট এর গায়ে প্লেটের উপর, সেটি নোট করে রাখুন অথবা ফটো তুলে রাখতে পারেন। যদি শার্টের প্লেট না থাকে তাহলে তার পরিচয় পত্র চাইতে পারেন। যদি না দিয়ে থাকেন তাহলে আপনার কাগজপত্র কখনোই তাঁকে দেবেন না।

এছাড়াও আপনি এই ঘটনাকে বিস্তারিত লিখে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং সেই লেখাতে অবশ্যই সেই পুলিশ আধিকারিক এর সম্পূর্ণ তথ্য যেন পরিষ্কার ভাবে থাকে। আর এই অভিযোগপত্রটি ডাক এর মাধ্যমে পাঠাতে হবে।

তাহলে বুঝতেই পারছেন, রাস্তায় চলাফেরা করতে গেলে যে কোন মুহূর্তে যে কোন পরিস্থিতিতে আপনি কিন্তু এমন অবস্থায় পড়তে পারেন। তখন অবশ্যই মাথা গরম না করে ঠান্ডা মাথায় এই নিয়ম গুলো মনে রাখাটা জরুরি।

অযথা ঝামেলায় না জড়িয়ে সমস্ত রকম ট্রাফিক আইন অনুসারে উপরে দেওয়া বিষয়গুলি করতে পারেন। যাতে আপনার সময়, পরিস্থিতি এবং আরো অনেক কিছু বিষয় জটিল থেকে সরল হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

তবে অবশ্যই কখনোই তর্কাতর্কিতে জড়াবেন না। দরকার হলে যদি আপনি কোন কারণে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে থাকেন, সেক্ষেত্রে বুঝিয়ে বলতে পারেন যে আপনার কোন প্রয়োজনীয় কাজ অথবা বাধ্য হয়েই করেছেন যেটা, সেটা স্বীকার করতে পারেন। আর যদি ভুল করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই ক্ষমা চেয়ে নেবেন। আপনার যাত্রা শুভ হোক, তার সাথে অবশ্যই সাবধানে গাড়ি চালাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *