ভারতে পুত্রবধুর অধিকার কি? মহিলাদের বিয়ের আগে জানা দরকার সবকিছু

মহিলাদের বিয়ের আগে জানুন পুত্রবধুর কি কি আইনি অধিকার আছে? ভারতে পুত্রবধুর অধিকার কি? মহিলাদের বিয়ের আগে তাদের পুত্রবধুর অধিকার সম্পর্কে জেনে রাখাটা জরুরী, ভারতে পুত্রবধুর অধিকার জানুন।

একজন মহিলা বিবাহ করার আগে তার বিবাহ সম্পর্কিত অধিকার সম্পর্কে জেনে রাখাটা জরুরি। রক্ষণাবেক্ষণ এবং তারপরে সমস্ত রকমের অধিকার, বসবাস এবং একজন ঘরের পুত্রবধূর কাছে বিভিন্ন রকমের অধিকার থাকে। আর এই বিষয়ে বেশিরভাগ মহিলারা অনেক কিছুই জানেন না বলতে গেলে।

ভারতে মহিলাদের বিভিন্ন রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেখান থেকে শুরু হয় সমস্ত রকমের সমস্যা। তারপর বিয়ের পর, বিয়ের সময় যৌতুক, এবং যদি না দিতে পারা যায় যৌতুক, তার জন্য শ্বশুরবাড়িতে মৃত্যুবরণ, আত্মহত্যা, মেরে ফেলা, তার সাথে সাথে বৈবাহিক ধর্ষণের সাথে সাথে শোষণ নিপীড়ন তো আছেই।

যার পরিণাম স্বরূপ কোন মহিলার শারীরিক, মানসিক এবং তার ভাবনার উপর অনেক খানি প্রভাব বিস্তার করে। তার সাথে সাথে অত্যাচার যখন চরমে পৌঁছায়, তখন সমস্ত কিছু শেষ হয়ে যেতে বেশিক্ষণ সময় লাগে না।

ভারতে পুত্রবধুর অধিকার কি? মহিলাদের বিয়ের আগে জানা দরকার সবকিছু
ভারতে পুত্রবধুর অধিকার কি? মহিলাদের বিয়ের আগে জানা দরকার সবকিছু

সব থেকে বেশি বিবাহিত মহিলাদের জন্য এই বিষয়টি যন্ত্রণাদায়ক। কেননা বেশিরভাগ মহিলারা তাদের এই বিষয়ের উপরে আইন-কানুন সম্পর্কিত আইন অনুসারে অধিকার সম্পর্কে জানেন না বলা যায়।

সুপ্রিম কোর্ট নিজের স্বামীর দ্বারা সেই বিবাহিত মহিলার আত্মহত্যা করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মামলা অনেকখানি গুরুতর হয়ে থাকে। সেখানে বলা হয়েছে যে, জামাই / ছেলের  পরিবার এর কোনরকম সদস্য ঘরের বধুকে কখনোই কোনো রকম পরিস্থিতিতে ঘরের বাইরে বের করে দিতে পারবেন না।

আদালত এটাও বলেছে যে, বিবাহিত মহিলাকে সবসময়ের জন্য সম্মান করতে হবে। সংবেদনশীলতার প্রতি মানবিকতা সবকিছু বজায় রাখতে হবে।

এখানে সমস্ত রকম গুরুত্বপূর্ণ অধিকার দেওয়া রয়েছে যে সম্পর্কে, একজন বিবাহিত মহিলা অথবা কোন ঘরের বধুকে এ সম্পর্কে জেনে রাখাতে হবে:

স্ত্রীধন:

হিন্দু আইন-কানুন অনুসারে স্ত্রীধন কে বিবাহ, বিবাহ সমারোহ যেমন ধরুন গায়ে হলুদ বা সাধ ভক্ষণ, মুখ দেখা, বরযাত্রী এবং সন্তান প্রসব কালে যে কোন মহিলা প্রাপ্ত করতে পারেন। সমস্ত রকম অচল সম্পত্তি, উপহার ইত্যাদির সাথে।

স্ত্রীধন এর অধিকার শুধুমাত্র সেই মহিলার থাকবে। তার ওপরে তার স্বামী এবং স্বামীর পরিবারের অন্য কোন সদস্যের কোনরকম অধিকার থাকবে না। যদি শাশুড়ির কাছে সমস্ত রকম দায়িত্ব থেকে থাকে এবং কোন রকম ইচ্ছা এবং দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়া ছাড়া যদি মৃত্যুবরণ করেন সেই শাশুড়ি তাহলে সেই বধুর কাছে আইনত ভাবে সব অধিকার থাকবে। ছেলে অথবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য কিন্তু সেই অধিকার পাবে না।

স্বামীর থেকে যদি কোন মহিলা আলাদা থাকেন এবং সেই বিবাহিত মহিলা তার ভরণপোষণের জন্য সমস্ত রকম অধিকার কিন্তু হারাতে পারবেন না। যদি বিবাহিত মহিলা নিষেধ করে থাকেন সেক্ষেত্রে ঘরোয়া হিংসা করে স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির অন্যান্য সদস্য অপরাধমূলক অভিযোজন এর মুখোমুখি হওয়ার জন্য তিনি প্রতিবাদী হতে পারেন।

গর্বের সাথে এবং আত্মসম্মানের সাথে থাকার অধিকার: 

একজন বিবাহিত মহিলা শুধুমাত্র স্বামীর বাড়িতে খাওয়া, পরা এবং সেই বাড়ির বধূ হিসেবে পরিচিতি পাওয়াটা যথেষ্ট নয়। সেখানে তাকে সেই পরিবারের সমস্ত মানুষ সম্মান করবে এবং সেখানে সেই বিবাহিত মহিলা গর্বের সাথে বসবাস করতে পারবেন। এমন অধিকার কিন্তু প্রতিটি মহিলার রয়েছে।

সেখানে মানসিক অত্যাচার হোক বা শারীরিক অত্যাচার, তার বিরুদ্ধে আইন খুবই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সেই কারণে একজন বিবাহিত মহিলার অধিকার রয়েছে শ্বশুরবাড়িতে সসম্মানে এবং গর্বের সাথে বসবাস করা।

অনেক মানুষ এটা জানেন না যে, ঘরোয়া হিংসা অধিনিয়ম, হয় একজন বিবাহিত মহিলা কে “স্বামীর কার্যকারী ম্যাজিস্ট্রেট এর মাধ্যমে শান্তি রাখার জন্য বন্ধন” অথবা “ভালো ব্যবহারের বন্ধন,” এর বিকল্প আর কিছু হতেই পারে না।

স্বামী এবং তার পরিবারের সদস্যরা ঘরোয়া হিংসার আধারের উপর নির্ভর করে ডিভোর্স নেওয়ার অধিকার থেকে, আরো অন্যান্য আলাদা ঘরোয়া হিংসার জন্য আইন-কানুন রয়েছে বিবাহিত মহিলাদের পক্ষে। স্বামীর থেকে ধন- সম্পত্তি রূপে সমস্ত রকম অধিকার রয়েছে একজন বিবাহিত মহিলার।

প্রতিশ্রুতি এবং বিশ্বাসের অধিকার: 

একজন বিবাহিত মহিলার অধিকার রয়েছে তার স্বামী সেই মহিলার বিবাহ করার পর অন্য কোন মহিলার দিকে আকৃষ্ট হবেন না। সেই স্বামী তার বিবাহিত স্ত্রীর সাথে সারা জীবন সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখবেন।

যতক্ষণ পর্যন্ত কোন স্ত্রী তার স্বামীকে আইনত ডিভোর্স দিচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই স্বামী অন্য কোন মেয়ে কে বিবাহ করতে পারবেন না। এমন অধিকার প্রতিটি বিবাহিত মহিলার রয়েছে।

আর যদি কোন স্বামী অন্য কোন মহিলার সাথে সম্পর্ক রাখেন বিবাহবহির্ভূত তাহলে সেই স্বামীর স্ত্রী অর্থাৎ বিবাহিত স্ত্রী তার সাথে হওয়া অন্যায়ের এবং বিশ্বাসঘাতকতার মামলা দায়ের করতে পারেন এবং বেশ কিছু অ্যামাউন্ট সার্চ করতে পারেন। যা কিনা ডিভোর্সের জন্য জামিন / ক্ষতিপূরণ হয়ে যেতে পারে।

ইচ্ছা-অনিচ্ছার গুরুত্ব: 

একজন বিবাহিত মহিলার ইচ্ছা-অনিচ্ছার গুরুত্ব দেওয়া টা সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার শ্বশুর বাড়িতে স্বামী এবং স্বামীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সেই মহিলাকে জোরপূর্বক সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য কখনোই বাধ্য করতে পারবেন না।

তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে কোন কাজ করতে বাধ্য করতে পারবেন না। এ বিষয়ে আইন খুবই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আর এই অধিকার প্রতিটি বিবাহিত মহিলার রয়েছে, যা কিনা বেশিরভাগ মহিলারা জানেন না।

বিবাহ সম্পর্ক হল একটি সুন্দর সম্পর্ক, যেখানে স্বামী স্ত্রী দুজনেরই সমস্ত খারাপ পরিস্থিতি সমানভাবে তালে তাল মিলিয়ে সামলে নেওয়া জরুরি, তা না হলে প্রতি পদে হেনস্তার শিকার হতে হবে।

তাই একজন বিবাহিত মহিলার যেমন অধিকার রয়েছে স্বামীর কাছ থেকে এই সমস্ত বিষয়ে, তেমনি একজন বিবাহিত মহিলারও উচিত শ্বশুর বাড়িতে সমস্ত রকম পরিস্থিতি মানিয়ে নিয়ে বসবাস করা।

তবে অবশ্যই কখনোই অন্যায় দাবি বা শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার মেনে নেওয়া যাবে না, এই অধিকার কিন্তু রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।

এই সমস্ত অধিকার সম্পর্কে বেশিরভাগ মহিলারা জানেন না বলে শ্বশুরবাড়িতে হেনস্থা হওয়ার পর একেবারে আত্মহত্যার মত পথ বেছে নিয়ে থাকেন। তবে আপনি যদি একটু সাহস যুগিয়ে আইনত ভাবে এই বিষয়গুলি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন, সেক্ষেত্রে আশেপাশে আরও এমন পরিবেশ কিন্তু পাল্টে যেতে পারে, তার সাথে সাথে আপনার জীবন টাও অসময় এ হারাতে হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *