Durga Puja 2023: দেবী দুর্গা কে সন্তুষ্ট করতে এই বিষয়গুলি খেয়াল রাখবেন

প্রতিটি দেবদেবীর আলাদা আলাদা পছন্দ এবং নৈবেদ্য তাদেরকে আলাদাভাবে পরিচয় করিয়ে দেয় আমাদের সকলের সাথে। দেবদেবীর আরাধনা করতে কিছু বিশেষ সামগ্রী ব্যবহার করতে হয়, আবার এমন কিছু বিশেষ সামগ্রী রয়েছে যেগুলি কোনভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। দুর্গাপূজার বিভিন্ন রীতিনীতি অনুসারে বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে যা আমাদের সকলের মেনে চলতে হয়।

কোন কোন নৈবেদ্য এবং কি ফুল ব্যবহার করলে দেবী দুর্গাকে সন্তুষ্ট করা যেতে পারে তা হয়তো অনেকেই জানেন আবার অনেকেই এ সম্পর্কে কোন ধারণা রাখেন না। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী দুর্গা পূজা এবং নবরাত্রি এই দুটি উৎসব বিভিন্ন জায়গা অনুসারে বিশেষ বিশেষ ভূমিকা এবং গুরুত্ব বহন করে থাকে।

দেবী দুর্গা কে সন্তুষ্ট করতে এই বিষয়গুলি খেয়াল রাখবেন
দেবী দুর্গা কে সন্তুষ্ট করতে এই বিষয়গুলি খেয়াল রাখবেন

অনেকে আবার বাড়িতেই দুর্গাপূজার অনুষ্ঠান করে থাকেন এবং সেটি বাড়ির পূজা হিসেবেই অনেকের কাছেই পরিচিত, যা অনেকদিন আগে থেকে চলে আসছে। দেবী দুর্গার আরাধনায় কোন সামগ্রী ব্যবহার করবেন আর কোন সামগ্রী ব্যবহার করা যাবে না তা নিয়ে একটা সাধারণ ধারণা থাকা জরুরি।

আবার এমন কিছু কিছু জিনিস রয়েছে যা দেবী দুর্গাকে অর্পণ করা অশুভ বলে মনে করা হয়, শাস্ত্র অনুসারে দুর্গাকে ভুলেও ধুতরো ফুল, আকন্দ ফুল এগুলি অর্পণ করা যাবে না। এছাড়াও এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলি মেনে চলতে হয়, তাছাড়া ফুলের দিক থেকে বলতে গেলে লাল ফুল ব্যবহার করা অবশ্যই প্রয়োজন এবং গাঁদা ফুলও ব্যবহার করা যেতে পারে।

আপনার ভাগ্য ফেরাতে দুর্গাপূজার আগে ঘরে আনুন এই ৫ টি জিনিস

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক দেবী দুর্গাকে সন্তুষ্ট করতে আপনাকে কি কি বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে:

১) ঘট:

প্রতিটি পূজার মতো দুর্গা পূজাতেও ঘটের প্রয়োজনীয়তা কতখানি তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। দুর্গাপূজায় দেবীর উপাসনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী হল ঘট অথবা কলস।

এছাড়াও আপনি যদি মনে করেন তাহলে সোনা, রুপা অথবা তামার ঘট ও ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া চন্দন শাস্ত্র অনুসারে দুর্গা পূজার আরাধনার ক্ষেত্রে লাল চন্দন এর ব্যবহার প্রধান উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই গাছগুলি দেবীপক্ষের মধ্যে বাড়িতে লাগান মা দুর্গা সকল দুঃখ বিনাশ করবেন

২) জল:

দেবী দুর্গার আরাধনায় আরো একটি বিশেষ উপকরণ হলো পবিত্র জল, যা কিনা অনেক ক্ষেত্রে গঙ্গার জল ব্যবহার করা হয়ে থাকে তাছাড়া পবিত্র সরোবর এর জলও দেবীর আরাধনা তে ব্যাবহার করা হয়ে থাকে।

পূজা সামগ্রীতে জলের বিশেষ স্থান রয়েছে। ঠাকুরঘর পরিষ্কার, চন্দন, ধুপ, প্রতিমার স্নান, প্রদীপ, যজ্ঞ ও নৈবেদ্য অর্পণ পর্যন্ত জলের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

গঙ্গা জলের মাহাত্ম্য সব থেকে বেশি এখানে, গঙ্গাজল না পেলে কোন কুয়ো অথবা অন্য কোন নদী বা তীর্থস্থানে জলাশয়ের জল ব্যবহার করা যেতে পারে দেবীর আরাধনায়।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে আপনার ও পূজার ঘরটিকে সাজান এই পদ্ধতিতে

৩) অক্ষত:

অক্ষত অর্থাৎ অখণ্ড চাল অন্যান্য পূজার মতোই এই পূজাতে ও এক প্রধান সামগ্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উল্লেখ্য যে অক্ষত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের সকলকে সাবধান হয়ে থাকতে হবে।

কেননা পুজোয় যে চালের ব্যবহার করা হয় সেই চালের দানা যেন কোনোভাবেই ভেঙে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। অক্ষত কথার অর্থ হল সেটা যেন কোন ভাবেই ক্ষয় হয়ে না যায়, ভেঙে না যায়, তাই এই বিষয়ে খেয়াল রাখাটা জরুরী।

দুর্গাপূজার দিন গুলিতে কোন দিন কোন পোশাক পরবেন? চলুন জানা যাক

৪) প্রদীপ:

দেবী দুর্গার আরাধনায় আরো একটি বিশেষ উপাদান হলো প্রদীপ, যা গাওয়া ঘি এর প্রদীপ বলে অনেকেই জানেন আর এই প্রদীপের ব্যবহার সব থেকে উত্তম আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে তিলের তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

আর যদি একান্তই সেই তিলের তেল যোগাড় করতে না পারা যায় তাহলে সরিষার তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বড় প্রদীপ সর্বদাই দেবী দুর্গার সামনে জ্বালিয়ে রাখতে হবে। আরো একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে সেই প্রদীপ যেন কোন ভাবেই নিভে না যায়।

দুর্গাপূজা করুন এই নিয়মে আপনার উপর প্রসন্ন হবেন দুর্গতিনাশিনী

৫) ফুল:

প্রতিটি পূজায় ফুলের গুরুত্ব কতখানি সে তো আমরা সকলেই জানি। ফুল ছাড়া পূজা সম্পন্ন হয় না তাই দুর্গাপূজার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

দুর্গাপূজায় লাল রঙের ফুলের বিশেষ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়, দুর্গাপূজার সময় জবা, গোলাপ, গাঁদা ফুল বিশেষ করে পদ্মফুল এই ফুলগুলি অর্পণ করা উচিত এবং শুভ বলে মনে করা হয়। তবে শাস্ত্র অনুসারে কখনোই ধুতরা ফুল, আকন্দ ফুল এগুলি ব্যবহার করা যাবে না।

নবরাত্রির সময় এই ভুলগুলো করবেন না! দেবী অসন্তুষ্ট হবেন

৬) ধূপ:

দেবী দুর্গার আরাধনায় প্রদীপের পাশাপাশি ধূপের গুরুত্ব অপরিসীম। পুজোর সময় ধূপদানি তে কয়লা রেখে তাতে কিছু বিশেষ সামগ্রী মেশানো হয় এই প্রক্রিয়া ধূপ দান নামে পরিচিত।

কয়লার উপরে এই মিশ্রণ ছেটালে সুগন্ধিত ধোঁয়া নির্গত হয় এবং যা পূজোর পরিবেশ টি আরো বেশি পুজোর গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে।

দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠী এই ভাবে পালন করলে সংসারে আসবে সমৃদ্ধি

৭) নৈবেদ্য:

দেবী দুর্গার ভোগ নিবেদন করার কথা সকলেরই মনে থাকে পূজার ক্ষেত্রে নৈবেদ্য অর্পণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ।

তাছাড়া আরও অন্যান্য নৈবেদ্যর পাশাপাশি ফল অর্পণ করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের ফল এর পাশাপাশি মিষ্টি ও অর্পণ করা হয়।

দূর্গা পূজার সময় এই কাজ গুলি ভুলেও করবেন না, সঠিক পদ্ধতি জানুন

৮) পূজার বিশেষ সামগ্রী:

দুর্গাপূজায় বিশেষ আরও অন্যান্য নৈবেদ্য, ফুল, ফল, এইগুলোর পাশাপাশি আরও বিশেষ কিছু সামগ্রী যুক্ত করা হয়। শাস্ত্র অনুসারে বিভিন্ন ধরনের ফল, নারকেল, কলা, কমলালেবু, বেদানা, কাঁঠাল, বেল ইত্যাদি নিবেদন করে দেবী মায়ের প্রতি ভক্তি অর্পণ করা হয় এবং অন্ন দানও করা হয়।

এছাড়াও দুর্গা পূজার জন্য বিশেষ সামগ্রী হিসেবে পান, সুপারি, সিঁদুর, আবির, মধু, দই, দুধ, রোলী, ঘি, কর্পূর, দুর্বাঘাস, বিভিন্ন ধরনের ফুল, বেলপাতা, পাঁচ মেওয়া, মরশুমি ফল, কাঁচা সুতো, ঘট, প্রদীপ, ঢাকনা, রং এবং আরো অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অর্পণ করা হয়।

অপরাজিতা পূজা দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের পরেই কেন করা হয়? জানেন কি?

৯) বস্ত্র ও অলংকার:

পূজার আরো অন্যান্য বিশেষ সামগ্রীর পাশাপাশি দেবী দুর্গাকে সাজানোর জন্য বস্ত্র এবং অলংকার অর্পণ করা হয়। অনেক ভক্ত রয়েছেন যাঁরা দেবীকে এই সময় বস্ত্র ও অলংকার নিবেদন করে থাকেন।

✨ দুর্গাপূজা যেমন একটি আনন্দের উৎসব তেমনি এই পূজাতে আর আরো অন্যান্য নিয়মকানুন মানার পাশাপাশি এই সমস্ত নিয়ম গুলির প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। দুর্গাপূজা বাড়িতে হোক অথবা কোন মণ্ডপে, নিয়ম সব জায়গাতেই সমান ভাবে প্রযোজ্য, তবে বনেদি বাড়ীর পূজার ক্ষেত্রে আরো বিশেষ কিছু নিয়ম কানুন পরম্পরাগত ভাবে পালন করা হয়।

Leave a Comment