Dol Purnima 2024: সমস্যার সমাধান করতে দোল পূর্ণিমায় করুন এই কাজগুলি

সনাতন ধর্মাবলম্বী দের কাছে দোল পূর্ণিমা, হোলি কতখানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। শ্রীকৃষ্ণ গোপিনী দের সাথে রং খেলায় মেতে ছিলেন, সেই উৎসব পৃথিবীতে আজও পালিত হয়ে আসে খুবই সাড়ম্বরে। তবে এই উৎসবের সাথে সাথে অনেক গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য রয়েছে।

যেগুলি পালন করার মধ্যে দিয়ে আপনি পেতে পারেন পরম সুখ, সংসারে আসবে সমৃদ্ধি, শান্তি তার সাথে যে সমস্ত সমস্যা গুলি রয়েছে আপনার জীবনে তা অনেক খানি কেটে যাবে এমনটাই ধারণা নিয়ে দোল পূর্ণিমার দিন যে বিশেষ রীতি গুলি আপনি মানতে পারেন। প্রতিটি বাড়িতে কোন না কোন সমস্যা ছোটখাটো থেকেই থাকে। সেই সমস্যার সমাধান করতে হিমশিম খেতে হয় বাড়ির মানুষদের।

দোল পূর্ণিমা: সমস্যার সমাধান করতে দোল পূর্ণিমায় করুন এই কাজগুলি
দোল পূর্ণিমা: সমস্যার সমাধান করতে দোল পূর্ণিমায় করুন এই কাজগুলি

তবে আপনি যদি ভক্তি ভরে পূজা অর্চনা করেন এবং বিশেষ কিছু নিয়ম পালন করেন, তাহলে সেই সমস্ত সমস্যা থেকে অনেক খানি মুক্ত হওয়া যায় এমনটাই বিশ্বাস ও ধারণা অনুসারে সেই নিয়ম আজও পালিত হয় বিভিন্ন জায়গায়।

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, পবিত্র এই দোল পূর্ণিমার দিন আপনি যে কাজ গুলি করলে সংসারের অনেক সমস্যার সমাধান পেতে পারেন:

১) বাড়ির সমস্যার সমাধান: 

প্রতিটি মানুষের জীবন একেবারে সহজ সরল নয়, সেই জীবনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সংগ্রাম, দুঃখ-কষ্ট এবং অনেকখানি সমস্যা। একটি সমস্যা দূর হওয়ার সাথে সাথে আরেকটি সমস্যা এসে হাজির হয়।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন, তবে প্রতিটি জীবনে এমনটা ঘটার জন্য একেবারে হতাশ না হয়ে এমন পরিস্থিতিতে দোল উৎসব অথবা হোলির রাতে বাড়ির প্রধান দরজায় সরিষার তেলের চার মুখী প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখুন।

তার সাথে সাথে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন এই সমস্যা থেকে যেন আপনি খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি পান, ভক্তিতে থাকে অনেকখানি শক্তি, তাই এই নিয়ম পালন করলে কিছুদিনের মধ্যে আপনার সংসারের সমস্যা থেকে সমাধান পেতে পারেন।

২) প্রিয়জন অসুস্থ থাকলে:

সুস্থ অসুস্থ প্রতিটি মানুষের জীবনে কম বেশি আসে, তবে যদি বাড়ির কোন ব্যাক্তি সদস্য অনেকদিন ধরে সুস্থ না হন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকেন, চিকিৎসা করেও সম্পূর্ণ রূপে সুস্থ হতে পারছেন না, তাহলে এই শুভ দিন, দোল পূর্ণিমার দিন যে নিয়ম টি আপনি করতে পারেন।

সেটি হলো পান, লাল গোলাপ এবং বাতাসা নিয়ে ঈশ্বরের কাছে অর্পণ করে সেটি ৩১ বার ঘোরান, প্রার্থনার সাথে একটি মোড়কে রাখতে পারেন, তবে এই ব্যবস্থাগুলি এমনভাবে করুন যা অন্য কেউ যেন কোনোভাবেই দেখতে না পায়। কিছুক্ষণ পর আপনার সেই অসুস্থ ব্যক্তির সাস্থ্যের উন্নতি আপনি দেখতে পাবেন।

৩) সংসারের অপ্রয়োজনীয় খরচ বাঁচানো:

পুজার পাশাপাশি নিজেকে অনেক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। তেমনি যদি কোন কারনে আপনার বাড়িতে অপ্রয়োজনীয় খরচ বেশি হয়, তবে নিজের সাথে সাথে পরিবারের আরো অন্যান্য সদস্যদের বোঝানোর পাশাপাশি দোল পূর্ণিমার এই শুভদিনে অথবা হোলির আগের দিন বাড়ির প্রধান দরজায় আবির ছিটিয়ে তার উপরে দ্বিমুখী প্রদীপ জ্বালাতে পারেন।

এর মধ্যে অর্থের ক্ষতির কথা আপনার মনের কথা প্রকাশ করে বলতে পারেন। প্রদীপ নিভানোর পর তা তুলে দোল উৎসব বা ন্যাড়া পোড়ানোর আগুনে নিক্ষেপ করুন। বিশ্বাস করা হয়  আপনার সংসারে যে অতিরিক্ত খরচ হওয়ার প্রবণতা রয়েছে সেটা ন্যাড়া পোড়ানোর আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে যাবে।

তবে হ্যাঁ, শুধুমাত্র এই কাজ করে আপনি পর মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় কোন জিনিস কিনে টাকার অপচয় করলেন, এমনটা করলে কিন্তু কোনভাবেই হবে না। সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে আপনাকে এবং আপনার পরিবারের আরো সকল সদস্যকে।

৪) অর্থ সমস্যার সমাধান:

আর্থিক সংকট বড় সংকট, এমন সংকট প্রায় বাড়িতেই হতে পারে, যদি আপনার বাড়িতে আর্থিক সংকট থাকে তাহলে দোল উৎসব বা হোলির দিন নারায়ণ ও দেবীর লক্ষ্মীর মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা করতে পারবেন, নিয়ম-রীতি মিনি তারপর সহস্রনাম পাঠ করুন।

প্রভুর কাছে আপনার সমস্ত সমস্যার কথা জানান, অর্থ সমস্যার সমাধানের জন্য প্রার্থনা করুন। তার পাশাপাশি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী পশুদের খাওয়ান এবং দুঃখী মানুষদের মধ্যে দান করুন।

৫) খারাপ প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে:

অনেক সময় দেখা যায় কোন খারাপ ব্যক্তি কারো উন্নতিতে তার উপরে এতটাই হিংসাত্মক হয়ে ওঠে যে, তার উপরে বিভিন্ন রকমের টোটকা, যাদু এই সমস্ত করতে থাকে। এগুলি একটা খারাপ প্রভাব, যদি কেউ আপনার উপরে যাদু করে থাকে।

তবে তার প্রভাব দূর করতে দোল উৎসব অথবা হোলির রাতে যেখানে ন্যাড়া পোড়ানো হয় সেখানে একটি গর্ত খনন করুন, আর এই গর্তের মধ্যে ১১ টি কড়ি পুঁতে দিন, তার পরের দিন সেগুলি বের করে নীল রংয়ের কাপড়ে বেঁধে জলে ফেলে দিন।

আর আরেকটা কথা মনে রাখতে হবে বিশেষ করে, ঈশ্বর যার সাথে রয়েছেন তার কোনভাবে কোন ক্ষতি হতে পারে না, আপনিও কারো ক্ষতি না চেয়ে থাকলে, সবার ভালো করে থাকলে, আপনারও কিন্তু ভালই হবে।

⭐ সর্বদাই সৎ পথে থেকে উপার্জন করে, কারোর কোন ক্ষতি না করে জীবন যাপন করা, খুবই স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করা, সাদামাটা জীবন যাপন করা, এগুলি আপনাকে খুবই সুন্দর ভাবে শান্তিপূর্ণ  ভাবে বাঁচতে সাহায্য করে।

ঈশ্বরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস আপনাকে অনেক খানি উন্নত শিখরে নিয়ে যায়। তার সাথে পরিশ্রম, আপনার একাগ্রতা, সবকিছু অনেকখানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেই জন্য বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানের কিছু নিয়ম মানার পাশাপাশি নিজেকে রাখুন একেবারে পরিশুদ্ধ। সবার মঙ্গল কামনায় ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করবেন, আর এর ফলে আপনার জীবন থেকে কেটে যাবে অনেক সমস্যা। ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস রেখে নিজের কর্মে অবিচল থেকে ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

Leave a Comment