এগ্রিমেন্ট আর কন্ট্রাক্ট কি? আইনি অনুসারে এর মধ্যে পার্থক্য কি

Difference Between Agreement and Contract in Bengali: এগ্রিমেন্ট আর কন্ট্রাক্ট এর মধ্যে পার্থক্য কি? আইনি নিয়ম অনুসারে এগ্রিমেন্ট আর কন্ট্রাক্ট এর মধ্যে পার্থক্য জেনে নিন। জানুন কি কি কাজের জন্য এইগুলি ব্যাবহার করা হয়।

জীবনে প্রতিনিয়ত কত রকম পদক্ষেপ আমাদের গ্রহণ করতে হয়। অনেক সময় কোনো কিছু না জেনেই আমরা এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করি, তার ফলাফল ভবিষ্যতে ভালো হতে পারে, আবার খারাপও হতে পারে। এই রকম ভাবে প্রতিদিন কত শত বিষয় আমরা সহমত, শর্ত, বোঝাবুঝি যাই বলুন না কেন, এমন বিষয় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকি।

যা কিনা আমাদেরকে আইনি রূপে বাধ্য করে থাকে, অথবা না-ও করতে পারে। যা আমাদের আইনি রূপে বেঁধে রাখতে পারে তাকে অনুবন্ধ / চুক্তি এর হিসেবে জানা হয়। তা ছাড়া বাকি সব কিছু বোঝাবুঝির উপরে নির্ভর করে।

এগ্রিমেন্ট আর কন্ট্রাক্ট কি? আইনি অনুসারে এর মধ্যে পার্থক্য কি
এগ্রিমেন্ট আর কন্ট্রাক্ট কি? আইনি অনুসারে এর মধ্যে পার্থক্য কি

এইভাবে ভারতীয় অনুবন্ধ / চুক্তি অধিনিয়ম চালু হয়, যেটা ভারতের যখন ব্রিটিশ সরকার শাসন চালাত, তখন সেই ব্রিটিশ সরকার দ্বারা এই অধিনিয়ম জারি করা হয়েছিল।

এই অধিনিয়ম জম্মু কাশ্মীর রাজ্যকে ছেড়ে সম্পূর্ণ দেশে জারি ছিল। তাছাড়া ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ 370 কে নিরস্ত করার আর জম্মু কাশ্মীর কে পুনর্গঠন অধিনিয়ম 2019 অধিনিয়ম এরপর এটি জম্মু-কাশ্মীরের উপর জারি করা হয়েছিল।

একটি এগ্রিমেন্ট কি?

যে কোন বিষয়ে একটি বোঝাবুঝি, যেখানে দুই পক্ষ অথবা দুইয়ের অধিক পক্ষের মধ্যে একে অপরের মতামত এর সম্মতি জানিয়ে তাদের অধিকার আর কর্তব্যের সম্পর্কে কোন রকম ব্যবস্থা অথবা সেই বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া শামিল থাকে।

এইভাবে যেখানে এই বোঝাবুঝির উপরে বিভিন্ন রকমের শর্ত জারি থাকে সেগুলির পালন করার মধ্যে দিয়ে একটি এগ্রিমেন্ট হয়ে থাকে। যা এগ্রিমেন্ট পেপার এর উপরে সেই সমস্ত পক্ষ সই করতে পারেন।

একটি কন্ট্রাক্ট কি?

এটি একটি অনবদ্য এবং বিশিষ্ট প্রকারের বোঝাবুঝি যা কিনা আইন অনুসারে আদালত দ্বারা জারি করা হয়। যেখানে যোগ্য পক্ষ গুলির মধ্যে আইনি রূপে বাধ্যকারী দায়িত্ব কে সম্পূর্ণ রূপে আইনি হিসেবে ডিজাইন করা হয়।

এখানে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য আবশ্যিক ভাবে সম্পূর্ণ করার কথা উল্লেখ করা থাকে। সেই অনুসারে পক্ষ গুলির সদস্য আইন অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন।

অবশ্যই আবশ্যিকতা কি?

একটি বোঝাবুঝিতে পৌঁছানোর জন্য সেই বিষয়ে পার্টি অথবা পক্ষ গুলিকে কেবলমাত্র নিজের স্বপক্ষে অধিকার আর কর্তব্যের সম্পর্কে একটি সামান্য জ্ঞান থাকা অবশ্যই প্রয়োজনীয়। যাকে সাধারণত মনের মিল বলা হয়ে থাকে।

একটি অনুবন্ধ / চুক্তি গঠনের ক্ষেত্রে আবশ্যিকতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তুলনামূলকভাবে। একটি অনিবন্ধ নিম্নলিখিত অবশ্যই প্রয়োজনীয় তথ্য হতে হবে, সেগুলি সেগুলি হল:-

১) প্রস্তাব আর স্বীকৃতি: প্রত্যেক চুক্তি অথবা অনুবন্ধ হতে একটি বিশিষ্ট প্রস্তাব আর সেই বিশিষ্ট প্রস্তাবের স্বীকৃতি শামিল থাকতে হবে।

২) পারস্পরিক সহমতি: প্রস্তাব ও স্বীকৃতি কে পক্ষ গুলির দ্বারা কোনরকম জোর-জবরদস্তির ছাড়া স্বাধীন ভাবে সহমত দেওয়া উচিত অথবা প্রয়োজনীয় সমস্ত পক্ষের সমান সমান ভিত্তিতে সহমত হতে হবে। আর সবাইকে একটি বাধ্য কারী চুক্তি গঠন করার লক্ষ্য রাখতে হবে।

৩) বিচার: এক্ষেত্রে বিচার এমন একটি বিষয় যেটা পক্ষের পক্ষ গুলির মধ্যে আদান-প্রদান করা হয়। বিচার ধন, মাল অথবা সেবা এই হিসাবে নেওয়া যেতে পারে।

কিন্তু চুক্তি গঠনের জন্য দুটি পক্ষের কিছু মূল্য প্রদান করতে হবে। যদি কেবল একটি মাত্র পক্ষ কিছু প্রদান করে থাকে, তাহলে এটি একটি উপহার বলতে পারেন, চুক্তি নয়।

৪) যোগ্যতা: দুটি পক্ষের পরিস্থিতি বোঝাটা জরুরি, আর এটাও বুঝতে হবে যে, চুক্তি কি হবে। এইভাব যে কোন পক্ষ ড্রাগস অথবা অ্যালকোহল এর প্রভাবে নাবালক এর মত ব্যবহার করতে পারবেন না। আর মানসিক ভাবে দুর্বল হয়েও পড়বেন না। যা কিনা তাকে চুক্তির শর্ত বোঝার জন্য বাধা প্রদান করতে পারে।

৫) আইনি উদ্দেশ্য: চুক্তির উদ্দেশ্য বৈধ চুক্তির তালিকায় যেন হয়ে থাকে। অন্য ভাষায় বলতে গেলে একটি আদালত কখনো কোনো অবৈধ জিনিস এর সম্বন্ধে চুক্তি জারি কখনোই করবে না।

এছাড়া আইন অনুসারে একটি চুক্তিকে সব সময়ের জন্য লিখিত ভাবে হওয়াটা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপরে দেওয়া সমস্ত রকম বিষয়ের উপর যদি সাধারণ ধারণা ও জ্ঞান থেকে থাকে তাহলে যেকোনো চুক্তি বৈধ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।

তবে কিছু পরিস্থিতির ক্ষেত্রে এমন চুক্তি লিখিত ভাবে করাটা খুবই প্রয়োজনীয়, যাতে কোনরকম ঠকানোর মতো পরিস্থিতির না তৈরি হয়। এমন কিছু বিষয়ের উপরে আপনিও কোন চুক্তি করবেন, সে ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি হওয়া টা অবশ্যই প্রয়োজন। যেমন ধরুন:-

একটি এগ্রিমেন্ট আর একটি কন্ট্রাক্ট এর লাভ কি আছে?

একটি চুক্তি প্রাথমিক ভাবে কোন বিষয়ে যদি কেউ সেই চুক্তি অনুসারে মানদন্ড সম্পূর্ণ না করে থাকেন, তাহলে সেটা অনৈতিক হিসাবে মনে করা হয়। যেখানে পক্ষের মধ্যে সহমত এবং লম্বা সময় পর্যন্ত সেই পক্ষ গুলোর মধ্যে বিশ্বাস বজায় থাকাটা এর মধ্যে পড়ে।

সময় সাপেক্ষ যদি কোন কাজ হয়ে থাকে, তাহলে এই এগ্রিমেন্ট আর কন্ট্রাক্ট আপনাকে আপনার অধিকার পাইয়ে দিতে অনেকখানি সহযোগিতা করবে।

এছাড়া চুক্তির সমস্ত রকম তথ্য যদি লিখিতভাবে উল্লেখ থাকে, তাহলে সেই অনুসারে যদি কারও মত বিরোধ হয় পরবর্তীতে সে অনুসারে প্রমাণিত করতে পারবেন যে, এগ্রিমেন্ট অথবা চুক্তি কিভাবে করা হয়েছিল।

যেখানে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বেশ ভাল সম্পর্ক রয়েছে, সেখানে একে অপরের উপরে ভরসা করতে পারবেন খুবই ভালো ভাবে। সেখানে কিন্তু এই চুক্তি কোন ভাবেই নড়চড় হওয়ার কথা নয়।

তাছাড়া যেকোনো চুক্তি সাধারণত কোন আধিকারিক ব্যবসা-বাণিজ্য মামলাতে খুবই কম বোঝাবুঝির উপরে পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। কেননা এটি খুবই সুরক্ষা প্রদান করে থাকে।

বিশেষ করে কোন বড় ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য এগ্রিমেন্ট অথবা কন্টাক্ট বিশেষভাবে কাজে আসে। যদি অনেক দিনের চেনা পরিচয় ও বিশ্বস্ত পক্ষ অথবা পার্টি হয়ে থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় চুক্তি অনুযায়ী কাজ হতে কোনো রকম বাধা আসে না।

এছাড়া লিখিত চুক্তির মধ্য দিয়ে এমন ব্যবসা বাণিজ্য করার কথা আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন। যেখানে ঠকানোর মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাই নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *